চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি আসরে প্রাথমিক পর্বে সব ম্যাচে জয় পেয়েছে কেবল আর্সেনালচ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি আসরে প্রাথমিক পর্বে সব ম্যাচে জয় পেয়েছে কেবল আর্সেনাল। ছবি: গেটি ইমেজেস

সেমিফাইনাল মানেই আর্সেনালের জন্য হতাশার গল্প—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমনটাই ছিল বাস্তবতা। তবে সেই নেতিবাচক ইতিহাস বদলানোর পথে বড় এক ধাপ এগোল মিকেল আর্তেতার দল। কারাবাও কাপ সেমিফাইনালের প্রথম লেগে চেলসির মাঠে ৩-২ গোলে জিতে ফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখল আর্সেনাল।

দুই লেগের সেমিফাইনালে এর আগে টানা চারবার বিদায় নিতে হয়েছিল গানারদের। ওই চার ম্যাচে মোটে দুটি গোল করেছিল তারা, জিততে পারেনি এক লেগও। সেই জায়গা থেকে চেলসির বিপক্ষে এই জয় আর্সেনালের জন্য আত্মবিশ্বাসের বড় বার্তা।

এই জয়ের ফলে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ফিরতি লেগে পরিষ্কার সুবিধা নিয়ে নামবে আর্সেনাল। নিজেদের মাঠে চলতি মৌসুমে এখনো অপরাজিত আর্তেতার দলকে তাই ফাইনালের শক্ত দাবিদার হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি আর্সেনালের ৩২তম ম্যাচ। এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ম্যাচে হেরেছে তারা—প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুল ও অ্যাস্টন ভিলার মাঠে। লিগ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ—দুটিতেই শীর্ষে থাকা দলটি এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডেও জায়গা করে নিয়েছে।

তবে চেলসির বিপক্ষে ম্যাচ শেষে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন আর্তেতা। তাঁর মতে, ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। ৩-১ এগিয়ে থাকার সময় দুটি বড় সুযোগ নষ্ট করায় ম্যাচ আবার জমে ওঠে।

ম্যাচ শেষে আর্তেতা বলেন, “খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতেই হবে। দারুণ মানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আমরা বেশিরভাগ সময়ই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। ৩-১ অবস্থায় আরও দুটি নিশ্চিত সুযোগ পেয়েছিলাম। সেগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতো।”

এই ম্যাচে আর্সেনালের জন্য স্বস্তির খবর ভিক্টর গিয়োকারেসের ফর্মে ফেরা। স্পোর্টিং থেকে ৬ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডে আসার পর প্রত্যাশা অনুযায়ী শুরুটা করতে পারেননি সুইডিশ এই ফরোয়ার্ড। চেলসির বিপক্ষে গোলটি ছিল নভেম্বরের পর খোলা খেলায় তাঁর প্রথম গোল। পাশাপাশি মার্টিন জুবিমেন্ডির গোলেও সহায়তা করেন তিনি।

গিয়োকারেস বলেন, “এই কাজটাই আমাকে নিয়মিত করতে হবে। আজ জিতেছি, সামনে এগোচ্ছি। দ্বিতীয় লেগ এখনো বাকি, সেখানে ভালো খেলতেই হবে।”

ম্যাচে দুইবার দুই গোলের লিড নিয়েও সেটি ধরে রাখতে পারেনি আর্সেনাল। আলেহান্দ্রো গারনাচো চেলসির হয়ে দুটি গোল করে ব্যবধান কমান। এ নিয়ে কিছুটা হতাশ বেন হোয়াইটও।

তিনি বলেন, “দ্বিতীয়ার্ধে আমরা নিজেদের মান অনুযায়ী খেলতে পারিনি। ওদের চাপ বাড়তে দিয়েছি, সেখান থেকেই গোল এসেছে।”

তবে সেমিফাইনালের হিসাব আপাতত সরিয়ে রেখে প্রিমিয়ার লিগেই মনোযোগ দিতে চান আর্তেতা। শনিবার নটিংহ্যাম ফরেস্টের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতিতে দ্রুত মন ফেরাতে চান তিনি।

“এই ম্যাচ শেষ। এখন পরের চ্যালেঞ্জের দিকেই তাকাতে হবে,” বলেন আর্সেনাল কোচ।

সব মিলিয়ে চেলসির মাঠে পাওয়া এই জয় আর্সেনালের জন্য শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং দীর্ঘদিনের সেমিফাইনাল হতাশা কাটিয়ে বড় মঞ্চে ফেরার বাস্তব সুযোগ।