মাঠের বাইরের অস্থিরতা যেন মাঠে নেমে গেল চট্টগ্রাম রয়্যালসের শক্তিতে। মালিকানা সংকট, কোচিং স্টাফের ক্ষোভ—সব আলোচনাকে পেছনে ফেলে বিপিএলের উদ্বোধনী দিনেই জোরালো বার্তা দিল দলটি। শেখ মেহেদি হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে আর মির্জা বেগের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে উড়িয়ে দিয়ে ৬৫ রানের বড় জয় তুলে নিয়েছে চট্টগ্রাম।
শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৭৪ রান তোলে চট্টগ্রাম। জবাবে ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নোয়াখালী থামে ১৬.৫ ওভারে ১০৯ রানে।
ম্যাচের আগের দিনই চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা ছেড়ে দেয় ট্রায়াঙ্গল সার্ভিসেস। শেষ মুহূর্তে দলটির দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সেই অস্থিরতার মধ্যেই মাত্র দুই বিদেশি ক্রিকেটার নিয়ে মাঠে নামে চট্টগ্রাম। তবু ব্যাটে-বলে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতেই মোহাম্মদ নাঈম শেখকে হারায় চট্টগ্রাম। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস গড়ার কাজটা নিখুঁতভাবে করেন পাকিস্তানি ওপেনার মির্জা বেগ। শুরুতে সতর্ক, পরে ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। ৪৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করা মির্জা শেষ পর্যন্ত ৬৯ বলে ৮০ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৭টি চার ও ২টি ছক্কা।
তার সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৫৮ রানের কার্যকর জুটি গড়েন মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর চার নম্বরে নেমে মাত্র ১৩ বলে ২৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসান। মির্জা–মেহেদির ২২ বলে ৩৯ রানের জুটিতেই মূলত চট্টগ্রামের সংগ্রহ বড় রূপ নেয়।
বল হাতে নেমে মেহেদি নিজের নেতৃত্বের ছাপ রাখেন আরও স্পষ্টভাবে। আঁটসাঁট বোলিংয়ে ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। শুরুতেই নোয়াখালীর ব্যাটিং ভেঙে দেন শরিফুল ইসলাম। তার সুইংয়ে তৃতীয় ওভারেই ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।
এক প্রান্তে সাদাকাত কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও সঙ্গ পাননি অন্য প্রান্তে। সাব্বির হোসেন, সৈকত আলি, জাকের আলিরা ব্যর্থ হন। সাদাকাত ২৭ বলে ৩৮ রান করে ফিরতেই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় নোয়াখালী।
শেষদিকে হায়দার আলি ২৮ রানের ইনিংস খেললেও ব্যবধান কমানোর মতো কিছু করতে পারেননি। বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলাম ৩ উইকেট নিলেও খানিকটা খরুচে ছিলেন। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কখনোই হাতছাড়া করেনি চট্টগ্রাম।
ব্যাট হাতে ঝলক দেখানো মির্জা বেগ ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। তবে এই জয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল অধিনায়ক শেখ মেহেদির—ব্যাটে ঝড়, বলে নিয়ন্ত্রণ আর মাঠে নেতৃত্বে আত্মবিশ্বাস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর>>
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৭৪/৬ (মির্জা ৮০, নাঈম ১১, মাহফিজুল ১৬, জয় ১৭, মেহেদি ২৬, আবু হায়দার ৪, জিয়াউর ৬; হাসান ৪-০-২৫-১, রানা ৪-০-২৯-১, ইহসানউল্লাহ ৩-০-৪০-০, জাহির ৪-০-৩৫-১, সাদাকাত ৪-০-৩১-১, সাব্বির ১-০-৯-২)।
নোয়াখালি এক্সপ্রেস: ১৬.৫ ওভারে ১০৯ (সাদাকাত ৩৮, সোহান ১৫, সাব্বির ৫, সৈকত ৪, জাকের ৬, হায়দার ২৮, মাহিদুল ৫, হাসান ০, রানা ২, জাহির ১, ইহসানউল্লাহ ০; শরিফুল ৩-০-১৪-২, আবু হায়দার ৩-০-১৯-১, মেহেদি ৪-০-১৭-২, তানভির ৪-০-৩৯-৩, মুকিদুল ২.৫-০-১৮-২)।
ফল: চট্টগ্রাম রয়্যালস ৬৫ রানে জয়ী। ম্যান অব দা ম্যাচ: মির্জা বেগ।

