পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শেবাজ শরীফ ও বাংলাদেশের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল

ক্রিকেট বিশ্বের ভূ-রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব মেরুকরণ প্রত্যক্ষ করছে ক্রীড়াপ্রেমীরা। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া এবং এর প্রতিবাদে পাকিস্তানের ভারত-ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত এখন টক অফ দ্য টাউন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরাসরি বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করার পর, তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

গতকাল বুধবার ইসলামাবাদে মন্ত্রিসভার বৈঠকে শাহবাজ শরিফ স্পষ্ট করেছিলেন যে, বাংলাদেশের প্রতি অবিচারের প্রতিবাদেই তারা ভারতের বিপক্ষে না খেলার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তাঁর এই বক্তব্য উদ্ধৃত করে আজ নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে আসিফ নজরুল লিখেছেন, “ধন্যবাদ পাকিস্তান।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শাহবাজ শরিফ খুব ভেবেচিন্তেই এই উপযুক্ত সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন এবং খেলার মাঠে রাজনীতি না রাখার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে।

আইসিসির ‘দ্বিমুখী নীতি’ ও বাংলাদেশের অবস্থান

নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ সরকার জাতীয় দলকে ভারতে পাঠানোর অনুমতি দেয়নি। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এর আগেও জানিয়েছিলেন যে, আইসিসি থেকে বাংলাদেশ সুবিচার পায়নি। ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য শ্রীলঙ্কা সুযোগ করে দিলেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয়।

আসিফ নজরুলের মতে, “নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে অন্য ভেন্যুতে খেলা হওয়ার অনেক নজির পৃথিবীতে আছে, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইসিসি সেই নজির অনুসরণ করেনি।” গত ২২ জানুয়ারি সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত জানানোর পর আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।

লাভবান স্কটল্যান্ড

বাংলাদেশ নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় কপাল খুলেছে স্কটল্যান্ডের। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৪ নম্বরে থাকা স্কটল্যান্ড ২৬ জানুয়ারি রিচি বেরিংটনকে অধিনায়ক করে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে। এই দলে বড় চমক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন আফগান বংশোদ্ভূত পেসার জাইনুল্লাহ ইহসান।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের সূচি (গ্রুপ ‘সি’):

তারিখ প্রতিপক্ষ ভেন্যু
৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইডেন গার্ডেনস, কলকাতা
৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি ইডেন গার্ডেনস, কলকাতা
১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড ইডেন গার্ডেনস, কলকাতা
১৭ ফেব্রুয়ারি নেপাল ওয়াংখেড়ে, মুম্বাই

বিশ্লেষণের আড়ালে বড় বার্তা

পাকিস্তানের এই সংহতি এবং আসিফ নজরুলের প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানানো—উভয়ই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ওপর এক ধরণের চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই বিশ্বকাপে পাকিস্তান যদি সত্যিই ভারতের বিপক্ষে না খেলে, তবে টুর্নামেন্টের ব্যবসায়িক কাঠামো বড় ধরণের ধাক্কা খাবে।

ক্রিকেট কূটনীতিতে বাংলাদেশের এই ‘নৈতিক বিজয়’ ভবিষ্যতে আইসিসিকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও সতর্ক করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।