পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ছবি: এপিপি

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে বিশ্ব ক্রিকেট রাজনীতিতে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটল। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির ‘অন্যায্য’ আচরণের প্রতিবাদ এবং সংহতি প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বুধবার ইসলামাবাদে মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, খেলার মাঠে রাজনীতির কোনো স্থান নেই।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের কথা জানা গেলেও এর পেছনের প্রকৃত কারণ এই প্রথম প্রকাশ্যে এল।

শাহবাজ শরিফ বলেন, “টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার—আমরা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলব না। কারণ, খেলার মাঠে কোনো রাজনীতি থাকা উচিত নয়। আমরা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং এটিই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।”

প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া

এই সংকটের সূত্রপাত হয় গত ৩ জানুয়ারি, যখন ভারতের সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকার ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভেন্যু বদলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ করলেও আইসিসি তা ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ অনড় থাকায় আইসিসি তাদের বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, ভারত সরকার বা আইসিসি কেউই বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করতে পারেনি। আইসিসির এই দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি আগে থেকেই বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তান সরকারের ‘এক্স’ হ্যান্ডল থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা এই ম্যাচে মাঠে নামবে না।

আইসিসির সতর্কবার্তা

পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থানের পর আইসিসি এক বিবৃতিতে তাদের ‘দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব’-এর কথা মনে করিয়ে দিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেছে। তবে পাকিস্তান সরকারের কঠোর অবস্থানে মনে হচ্ছে, তারা বাংলাদেশের প্রতি করা অবিচারের প্রতিবাদে বিশ্বকাপের বড় অংকের রাজস্বের ম্যাচটি হাতছাড়া করতেও দ্বিধাবোধ করছে না।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি এক নজিরবিহীন ঘটনা, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রশাসনিক কাঠামো এবং ভারতের একাধিপত্যকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।