ইউরোপীয় ফুটবলের আধিপত্য কি তবে চিরতরে শেষ হতে চলেছে? সৌদি প্রো লিগের সাম্প্রতিক পরিকল্পনা অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের পর বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় নামগুলোকে মরুভূমির দেশে উড়িয়ে আনতে বিশাল এক মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছে সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (PIF)। তাদের রাডারে এবার শুধু ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে থাকা ফুটবলাররা নন, বরং মোহাম্মদ বা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো সময়ের সেরা তারকাদের দিকেও হাত বাড়িয়েছে তারা।
রাডারে সালাহ ও ভিনিসিয়ুস: অবিশ্বাস্য প্রস্তাব
এই দলবদল অভিযানের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য লিভারপুলের ‘মিশরীয় রাজা’ মোহাম্মদ সালাহ। লিভারপুল কোচ আর্নে স্লটের সাথে সালাহর সম্পর্কের টানাপোড়েনের সুযোগ নিতে চায় আল হিলাল ও আল কাদসিয়াহর মতো ক্লাবগুলো। যদিও লিভারপুল ২০২৭ পর্যন্ত সালাহকে ধরে রাখতে চায়, তবে ২০২৬ সালেই তাঁকে মোটা অঙ্কের বিনিময়ে সৌদিতে দেখার সম্ভাবনা প্রবল।
অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে পেতে ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ইউরোর এক অবিশ্বাস্য ৫ বছরের চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভিনিসিয়ুস প্রকাশ্য রিয়ালে থাকার কথা বললেও, পর্দার আড়ালে সৌদি কর্মকর্তাদের সাথে তাঁর এজেন্সির আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুই স্তম্ভে নজর
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজকেও পেতে চায় আল ইত্তিহাদ ও আল নাসর। যদিও ব্রুনো ইউরোপে থাকতে আগ্রহী, তবে তাঁর জন্য প্রতি সপ্তাহে ৭ লাখ পাউন্ডের (প্রায় ১০ কোটি টাকা) বিশাল পারিশ্রমিক প্রস্তাব করে রেখেছে সৌদিরা।
এছাড়া, ইউনাইটেড ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া ক্যাসেমিরোও ফ্রি এজেন্ট হিসেবে সৌদিতে যোগ দিতে পারেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের পর ৫০ জন নতুন মুখ
সৌদি কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য হলো বিশ্বকাপের পর অন্তত ৫০ জন শীর্ষ মানের বিদেশি ফুটবলারকে লিগে যুক্ত করা। এর জন্য প্রতি মৌসুমে ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ইউরো বরাদ্দ করা হয়েছে।
লক্ষ্যটা পরিষ্কার—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যখন ২০২৭ সালে আল নাসর ছেড়ে অবসরে যাবেন, তখন যেন লিগের গ্ল্যামার ও জনপ্রিয়তা একটুও না কমে। এমনকি রোনালদোকে আল নাসরের ১৫ শতাংশ মালিকানা দিয়ে ক্লাবের মালিক হিসেবে রেখে দেওয়ার পরিকল্পনাও চলছে।
তালিকায় আরও যারা আছেন
প্রিমিয়ার লিগ থেকে আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেলি, অ্যাস্টন ভিলার আমাদু ওনানা এবং ইউরি টিলেমানসও রয়েছেন সৌদির পছন্দের তালিকায়। বার্সেলোনার রবার্ট লেভানডোভস্কির চুক্তি এই মৌসুমে শেষ হতে চলায় তাঁর জন্য ওঁত পেতে আছে আল ইত্তিহাদ ও আল শাবাব। এমনকি সৌদি দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব দিরিয়াহ এফসি-ও বড় বাজেটের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রো লিগে প্রমোশন পাওয়ার আশায়।
বেসরকারীকরণ ও নতুন মালিকানা
সৌদি ফুটবলের এই বিপ্লবকে দীর্ঘস্থায়ী করতে ক্লাবগুলোকে বেসরকারি মালিকানায় ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আল হিলাল হতে যাচ্ছে প্রথম ক্লাব, যা নতুন বেসরকারি বিনিয়োগকারীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর ফুটবল বিশ্বের কেন্দ্রবিন্দু যে ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সরে আসবে, সৌদি আরবের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সেই বার্তাই দিচ্ছে।

