ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নতুন আশা দেখাচ্ছেন মাইকেল ক্যারিকমাইকেল ক্যারিক। ছবি: গেটি ইমেজেস

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচের হট সিটে যখন মাইকেল ক্যারিক বসেছিলেন, তখন অতি বড় ভক্তও হয়তো ভাবেননি মাত্র দুই ম্যাচেই ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের চেহারা এভাবে বদলে যাবে। রুবেন আমোরিমের ১৪ মাসের ব্যর্থতার গ্লানি যেন নিমিষেই ধুয়ে দিলেন ক্যারিক। ম্যানচেস্টার সিটির পর এবার আর্সেনালের ডেরায় গিয়ে ৩-২ গোলের মহাকাব্যিক জয়—আট বছর পর এমিরেটস স্টেডিয়ামে ইউনাইটেডের এই বিজয় উল্লাস নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে: ক্যারিক কি শুধুই অন্তর্বর্তীকালীন, নাকি তিনিই হতে যাচ্ছেন রেড ডেভিলদের স্থায়ী সমাধান?

আমোরিম বনাম ক্যারিক: পরিসংখ্যানের লড়াই

রুবেন আমোরিমের বিদায়ের পর যখন ইউনাইটেড ধুঁকছিল, তখন বোর্ড ক্যারিকের হাতে দায়িত্ব দেয়। পরিসংখ্যান বলছে, আমোরিম তাঁর ১৪ মাসের মেয়াদে মাত্র একবার টানা দুটি ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন।

অন্যদিকে, ক্যারিক দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই লিগের শীর্ষ দুই দল সিটি ও আর্সেনালকে হারিয়ে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট তুলে নিয়েছেন। মজার বিষয় হলো, বর্তমানে টেবিলের তলানিতে থাকা লিডস, উলভস ও বার্নলির বিপক্ষে আগের তিন ম্যাচে ইউনাইটেড যত পয়েন্ট পেয়েছিল, ক্যারিক বড় দুই ম্যাচ থেকেই তার দ্বিগুণ পয়েন্ট আদায় করেছেন।

কৌশলের পরিবর্তন: আমোরিমের ভুল সংশোধন

ক্যারিক আসার পরপরই আমোরিমের সেই বিতর্কিত ৩-৪-৩ ফরমেশন বাতিল করে প্রথাগত ‘ফোর ব্যাক’ সিস্টেমে ফিরে গেছেন। কোবি মাইনুর দলে প্রত্যাবর্তন এবং অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজকে তাঁর পছন্দের আক্রমণাত্মক পজিশনে ঠেলে দেওয়া—এই ছোট কিন্তু কার্যকর পরিবর্তনগুলোই ইউনাইটেডের খেলার গতি বদলে দিয়েছে।

এছাড়া প্যাট্রিক ডোরগুকে লেফট-উইংয়ে খেলানো এবং সুপার-সাব হিসেবে ম্যাথিউস কুনিয়ার ব্যবহার ক্যারিকের ফুটবলীয় প্রজ্ঞারই প্রমাণ দেয়। আর্সেনালের বিপক্ষে কুনিয়ার ৮৭ মিনিটের সেই জয়সূচক গোলটি ছিল নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস।

‘সোলশেয়ার ট্র্যাজেডি’র ভয় কি অমূলক?

ক্যারিকের এই সাফল্যে অনেকেই ২০১৮-১৯ মৌসুমের ওলে গানার সোলশেয়ারের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। সোলশেয়ারও অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসেবে এসে পিএসজিকে হারিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন এবং পরে স্থায়ী নিয়োগ পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই শুরুর রোমাঞ্চ স্থায়ী হয়নি। বিশ্লেষকদের একাংশ তাই সতর্ক করে দিচ্ছেন, এখনই ক্যারিককে স্থায়ী ঘোষণা করাটা তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে কি না।

তবে মাইকেল ক্যারিক নিজে এসব আলোচনায় কান দিতে নারাজ। তিনি বিনয়ের সাথে জানিয়েছেন, “আমি এখানে স্রেফ কাজ করতে এসেছি। আমরা খুব বেশি দূরের কথা ভাবছি না।”

স্যার জিম র‍্যাটক্লিফের মুখে চওড়া হাসি

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের ডিরেক্টর বক্সে বসা সংখ্যালঘু মালিক স্যার জিম র‍্যাটক্লিফের মুখে দীর্ঘ সময় পর চওড়া হাসি দেখা গেছে। আমোরিমের বিদায় এবং নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়ার মাঝে ক্যারিকের এই পারফরম্যান্স বোর্ডকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।

ছয় সপ্তাহ আগে যে সমর্থকরা ওলিভার গ্লাজনার বা অন্য কোনো বড় নাম খুঁজছিলেন, তারা এখন গ্যালারিতে গলা ফাটিয়ে গাইছেন ‘ক্যারিক সং’।

খেলোয়াড়দের নতুন প্রাণশক্তি

ম্যাথিউস কুনিয়া ম্যাচ শেষে জানিয়েছেন, ড্রেসিংরুমে এখন অন্যরকম এক এনার্জি কাজ করছে। ক্যারিক যেহেতু বছরের পর বছর এই ক্লাবে খেলেছেন, তিনি জানেন ইউনাইটেডের ডিএনএ ঠিক কী।

তাঁর এই জয়রথ কি বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াইয়েও বজায় থাকবে?
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের আকাশে এখন একটাই গুঞ্জন—ক্যারিক ম্যাজিক কি তবে স্থায়ী রূপ নিচ্ছে?