পাকিস্তান ক্রিকেটে বাবর আজমের টি-টুয়েন্টি ফর্ম ও স্ট্রাইক রেট নিয়ে সমালোচনা।ইদানিং কেবলই হতাশ করছেন বাবর আজম। ছবি: এএফপি

বাবর আজম কি আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের গতির সাথে তাল মেলাতে পারছেন না? পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গন এখন এই প্রশ্নে উত্তাল। ২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সুপার এইটের প্রথম ম্যাচ বৃষ্টির কারণে ভেস্তে গেলেও, টেলিভিশন টক-শো ‘গেম অন হ্যায়’-তে বাবরকে নিয়ে উত্তাপ কমেনি। দেশটির কিংবদন্তি পেসার শোয়েব আখতার সরাসরিই বলে দিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি সংস্করণটা বাবরের জন্য নয় এবং তাঁর উচিত এই ফরম্যাট থেকে বিদায় নেওয়া।

রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেসের মতে, বাবরকে চার নম্বরে নামানোর কৌশলটি সম্পূর্ণ ভুল। শোয়েব বলেন, “বাবরের নিজেরই বোঝা উচিত ছিল এই ফরম্যাট তার জন্য নয়। আর যদি খেলতেই হয়, তবে তাকে ওপেনিংয়ে খেলাতে হবে যেন প্রথম ৬ ওভারের সুবিধা নিতে পারে। এটা খুব সাধারণ হিসাব, কোনো মহাকাশবিজ্ঞান নয়।”

শোয়েবের মতে, এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা কেবল বাবরের ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা, যা দলের কোনো উপকারে আসছে না।

পরিসংখ্যানের আয়নায় বাবর

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৪৫৭১ রান নিয়ে বাবর সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হতে পারেন, কিন্তু তাঁর স্ট্রাইক রেট (১২৮.১৮) বড় প্রশ্নের মুখে। বিশেষ করে কমপক্ষে ৩৫০০ রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাবরের স্ট্রাইক রেটই সবচেয়ে কম।

পাওয়ার প্লে-তে মন্থর: টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাওয়ার প্লে-তে অন্তত ২০০ বল খেলেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বাবরের স্ট্রাইক রেট সর্বনিম্ন (৮৬.১৭)।

ডট বলের পাহাড়: পাওয়ার প্লে-তে ২১৭ বল খেলে তিনি ১১৬টিই ডট দিয়েছেন, আর ছক্কা মেরেছেন মাত্র একটি!

ব্যাটিং পজিশন নিয়ে দ্বন্দ্ব

পাকিস্তান কোচ মাইক হেসন বাবরকে চার নম্বরে খেলানোর পক্ষে যুক্তি দিলেও সাবেক অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ তা উড়িয়ে দিয়েছেন। হেসনের মতে, ইনিংসের শুরু বা শেষে বাবর গিয়ার বদলাতে পারেন না বলেই তাঁকে মিডল অর্ডারে রাখা হচ্ছে।

হাফিজ পাল্টা উত্তরে বলেন, “যদি বাবরকে একাদশে রাখতেই হয়, তবে টপ অর্ডার ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। চার নম্বর ওর জায়গা নয়।”

বিশ্বজুড়ে বিব্রতকর অভিজ্ঞতা

কেবল জাতীয় দল নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও বাবর এখন সমালোচিত। বিগ ব্যাশে সিডনি সিক্সার্সের হয়ে খেলার সময় স্টিভ স্মিথের সাথে ভুল বোঝাবুঝি কিংবা অ্যাডাম গিলক্রিস্টের কড়া সমালোচনা—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাবরের ‘অ্যাঙ্কর’ রোলে ব্যাটিং এখন সেকেলে হয়ে পড়েছে। এমনকি এই বিশ্বকাপেও নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে পাঁচজন ব্যাটসম্যান নামলেও বাবরকে ক্রিজে পাঠানো হয়নি, যা তাঁর বর্তমান অবস্থানের ওপর বড় এক চপেটাঘাত।

সুপার এইটের বাকি ম্যাচগুলোতে বাবর কি পারবেন তাঁর স্ট্রাইক রেট নিয়ে ওঠা সমালোচনার জবাব দিতে? নাকি শোয়েব আখতারের ভবিষ্যৎবাণীই সত্যি হতে চলেছে?