মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আজ সিরিজ জয়ের উৎসবে মাতোয়ারা হওয়ার কথা ছিল স্বাগতিকদের। তবে বেরসিক বৃষ্টির বাগড়া আর ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেই স্বপ্ন হোঁচট খেয়েছে। ১৫ ওভারের কার্টেল ওভার ম্যাচে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের কাছে ডিএলএস (DLS) পদ্ধতিতে ৬ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হলো।
টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামা বাংলাদেশের ইনিংস শুরু থেকেই ছিল নড়বড়ে। পাওয়ার প্লের শেষ দিকে মাত্র ১০ বলের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর সপ্তম ওভারের সময় শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকার পর ম্যাচ কমিয়ে ১৫ ওভারে আনা হয়। তবে বৃষ্টির পর খেলা শুরু হলে লিটন দাস (২৬) ও তাওহিদ হৃদয়ের (৩৩) বিদায়ের পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৪ ওভার ২ বলে ১০২ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ।
ব্যাটিং ব্যর্থতায় অল্প পুঁজি
বৃষ্টির আগে পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেটে ৪৩ রান তুলেছিল বাংলাদেশ। খেলা পুনরায় শুরু হলে বড় সংগ্রহের আশায় ছিলেন সমর্থকরা। কিন্তু তাওহিদ হৃদয়ের ৩৩ রান ছাড়া মিডল বা লোয়ার অর্ডারের কেউই দাঁড়াতে পারেননি। শামীম হোসেন কিংবা দলে ফেরা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন—সবার ব্যর্থতায় ৪ বল বাকি থাকতেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন সব ব্যাটার। কিউই বোলার জশ ক্লার্কসন মাত্র ৯ রান দিয়ে শিকার করেন ৩টি উইকেট।
বিধ্বংসী শুরু ও পাল্টা আক্রমণ
১০৩ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শরিফুল ইসলামের তোপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। নিজের প্রথম দুই ওভারেই ৩ উইকেট নিয়ে কিউই টপ অর্ডার ধসিয়ে দেন এই বাঁহাতি পেসার। পঞ্চম ওভারে শেখ মেহেদী ১ উইকেট নিলে ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল সফরকারীরা। মনে হচ্ছিল, রূপকথার এক জয় পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
তবে সেই স্বপ্নে জল ঢেলে দেন বেভন জ্যাকবস। পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। ডিন ফক্সক্রফটকে সঙ্গে নিয়ে ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তিনি। জ্যাকবস মাত্র ২৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ৩১ বলে ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর এই বিধ্বংসী ইনিংসে ২০ বল বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।
প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি
সিলেটে প্রথম ম্যাচে ৬ উইকেটের দাপুটে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচটি পরিত্যক্ত হওয়ায় সিরিজ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা সেই সুযোগ কেড়ে নিয়েছে। শরিফুল ইসলাম ৩ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেও বাকি বোলাররা জ্যাকবসের আক্রমণ রুখতে পারেননি। ফলে ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ১-১ সমতায় শেষ হলো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ১৪.২ ওভারে ১০২ (হৃদয় ৩৩, লিটন ২৬, সাইফ ১৬; ক্লার্কসন ৩/৯, সিয়ার্স ২/১২)
নিউজিল্যান্ড: ১১.৪ ওভারে ১০৪/৪ (জ্যাকবস ৬২*, রবিনসন ২৩; শরিফুল ৩/১৯, মেহেদী ১/২০)

