ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) মান উন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম ও সুবিধার ঘোষণা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। ভাত-ভর্তার চিরাচরিত অভ্যাস বদলে ক্রিকেটারদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে ড্রেসিংরুমে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
আগামী ৪ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ২০২৫-২৬ মৌসুম সামনে রেখে আজ মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব নেওয়া তামিম ইকবাল সেখানে লিগের আমূল পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরেন। এবারের ডিপিএলে বিসিবি কেবল মাঠের ক্রিকেট নয়, গুরুত্ব দিচ্ছে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ও নিরাপত্তার ওপরেও।
খাবারের দায়িত্বে বিসিবি
এতদিন ডিপিএলে ক্লাবগুলো নিজেরাই দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করত, যেখানে মেনুতে থাকত ভাত, গরুর মাংস ও আলু ভর্তার মতো ভারী খাবার। তামিম ইকবাল জানান, এবার থেকে বিসিবিই খাবারের দায়িত্ব নেবে।
তিনি বলেন, “হঠাৎ করে ভাতের অভ্যাস থেকে গ্রিল চিকেনে নিয়ে আসা হয়তো সহজ হবে না, তবে আমরা চেষ্টা করব স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রান্নার। ঘরোয়া ক্রিকেটের মান বাড়াতে ফিটনেসের কোনো বিকল্প নেই।”
আরও পড়ুন: ডিপিএলে ১২ দল চূড়ান্ত: ধানমন্ডির নাম বদল, লিগের আগে বিসিএল
ড্রেসিংরুমে ফোন নিষিদ্ধ
লিগের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নিয়মকানুন অনুসরণ করতে ড্রেসিংরুমে মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তামিম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “মাঠে ঢুকেই প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ফোন জমা দিতে হবে। ড্রেসিংরুমে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।”
নিরাপত্তায় আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স
গত বছর মোহামেডানের হয়ে খেলার সময় বিকেএসপিতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তামিম ইকবাল। সেই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার ব্যবস্থা করছেন তিনি। এবারের লিগের ৬টি ভেন্যুর প্রতিটিতে থাকবে আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স। বিসিবি সভাপতির মতে, প্রতিটি খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বোর্ডের নৈতিক দায়িত্ব।
স্থবিরতা কাটিয়ে মাঠে ফিরছে ক্রিকেট
অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর বন্ধ হয়ে থাকা ঘরোয়া ক্রিকেটকে মাঠে ফেরানোই ছিল তামিমের প্রধান চ্যালেঞ্জ। ক্লাবগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “গত কয়েক মাস ক্রিকেট একদম থেমে ছিল। ক্লাবগুলোকে আমরা আত্মবিশ্বাস দিয়েছি যে আগের অসংগতিগুলো আর ঘটবে না। সবাই মিলে ক্রিকেটিং ইকো-সিস্টেমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্টকে সফল করতে চাই।”
আগামী ৪ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া এই লিগ চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। এবারের আসরে কোনো সুপার লিগ বা রেলিগেশন লিগ থাকছে না।

