সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে মিরপুরে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটল বাংলাদেশের। বোলারদের বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের পর ব্যাটারদের দাপটে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর জোড়া ফিফটিতে ৮৭ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
বোলারদের দাপট ও নাহিদ রানার ‘ফাইফার’
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই নাহিদ রানার গতির মুখে পড়ে নিউজিল্যান্ড। মাত্র ৩২ রানে ৫ উইকেট শিকার করে কিউই ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দেন নাহিদ। সফরকারীদের পক্ষে ওপেনার নিক কেলি সর্বোচ্চ ৮৩ রান করলেও বাকিরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে।
শরিফুল ইসলামের ২ উইকেট এবং তাসকিন, সৌম্য ও রিশাদের ১টি করে উইকেটে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানেই অলআউট হয় নিউজিল্যান্ড।
আরও পড়ুন: নাহিদ রানার ‘পাঞ্জায়’ কুপোকাত নিউজিল্যান্ড, বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৯৯
শুরুর ধাক্কা ও তামিম-শান্তর প্রতিরোধ
১৯৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়েছিল বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই সাইফ হাসান (৮) সাজঘরে ফেরেন। প্রায় ৬ মাস পর দলে ফেরা সৌম্য সরকার একটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা মারলেও ৮ রানের বেশি করতে পারেননি। ২১ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলের হাল ধরেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
তৃতীয় উইকেটে এই দুই বাঁহাতি ব্যাটার ১১০ বলে ১২০ রানের অনবদ্য জুটি গড়ে জয়ের ভিত গড়ে দেন। তানজিদ তামিম ছিলেন রীতিমতো আক্রমণাত্মক। মাত্র ৩৩ বলে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত লিনাক্সের বলে আউট হওয়ার আগে ৫৮ বলে ৭৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি, যাতে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কার মার।
শান্তর ‘রিটায়ার্ড হার্ট’ ও মিরাজের জয়সূচক রান
অন্যদিকে নাজমুল হোসেন শান্ত ধীরস্থিরভাবে ফিফটি পূর্ণ করেন। ৭১ বলে ৫০ রান করার পর পেশির টানের (Cramp) কারণে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। এরপর লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় দ্রুত আউট হলেও জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি বাংলাদেশের। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন বাকি পথটুকু সহজেই পাড়ি দেন।
ম্যাচ সামারি:
নিউজিল্যান্ড: ১৯৮/১০ (৪৮.৪ ওভার); কেলি ৮৩, নাহিদ ৫/৩২।
বাংলাদেশ: ১৯৯/৪ (৩৫.৩ ওভার); তানজিদ ৭৬, শান্ত ৫০ (রিটায়ার্ড হার্ট)।
ফলাফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: ১-১ সমতা।

