বিসিবি সভাপতির চেয়ারে প্রথমবারের মতো তামিম ইকবাল।বিসিবি সভাপতির চেয়ারে তামিম ইকবাল। ছবি: বিসিবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচনে আর বেশি দেরি করতে চান না বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। আজ মিরপুর শেরে-ই বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সব ঠিক থাকলে আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিসিবির বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচন।

জুনেই নতুন বোর্ড: তামিমের ঘোষণা

চলতি মাসে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে যাওয়ার পর ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির হাতে বিসিবির দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়। এই কমিটির প্রধান কাজ ছিল ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করা। যদিও হাতে সময় আছে জুলাই মাস পর্যন্ত, তবে তামিম ইকবাল দ্রুতই কাজ শেষ করতে আগ্রহী।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে চলাকালীন আজ প্রেসবক্সে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তামিম। সেখানে তিনি বলেন, “আমরা আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচনটা করে ফেলতে চাই। সেটা না হলে দ্বিতীয় সপ্তাহেই এটা করবো নিশ্চিতভাবে। আমাদের হাতে ২১ জুলাই পর্যন্ত সময় থাকলেও আমরা অতদিন অপেক্ষা করতে চাই না।”

আরও পড়ুন: পাপনের ‘বোট’ থেকে তামিমের ‘স্পোর্টস হাব’: পূর্বাচল পূর্ণতা পাবে কবে!

মাঠে ফিরছে ‘বল বয়’ সংস্কৃতি

নির্বাচনের পাশাপাশি ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অবকাঠামো এবং ঐতিহ্যে কিছু পরিবর্তন আনতে চান তামিম। তারই অংশ হিসেবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেই মাঠে ‘বল বয়’ প্রথা পুনরায় চালু করার ঘোষণা দেন তিনি।

তামিম আক্ষেপ করে বলেন, “আগে দেখতাম বাউন্ডারির চারপাশে তরুণ ক্রিকেটাররা বল বয় হিসেবে থাকতো। এখন পৃথিবীর সব দেশে থাকলেও আমাদের এখানে কেন জানি এটা বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা এটা আবার চালু করতে চাই।”

আরও পড়ুন: বিসিবিতে শুরুতেই তামিম ইকবালের ‘বোল্ড স্টেপ’

স্মৃতিচারণে বল বয় তামিম

বল বয়দের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এক মজার স্মৃতি শেয়ার করেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন, “আমি নিজেও বল বয় ছিলাম। ১৯৯৮ সালে যখন চট্টগ্রামে এমসিসি (মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব) এসেছিল, আমি সেই ম্যাচে বল বয় হিসেবে কাজ করেছি। আরও অনেক ম্যাচেই আমি এই দায়িত্ব পালন করেছি।”

নির্বাচন আয়োজন এবং মাঠের জৌলুস ফেরানোর এই জোড়া ঘোষণা দিয়ে তামিম স্পষ্ট করে দিলেন যে, স্বল্প মেয়াদে দায়িত্ব নিলেও বিসিবিতে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চায় তাঁর কমিটি।