ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ।সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল না।

সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে যে বিতর্ক ও সমালোচনার ঝড় উঠেছিল, তা নিরসনে এবার নড়েচড়ে বসেছে সরকার। কেন বাংলাদেশ এই মেগা ইভেন্টে অংশ নেয়নি, সেই কারণ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।

তদন্ত কমিটির সদস্য ও কার্যপরিধি

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্দেশনায় গঠিত এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অণুবিভাগ) কে এম অলিউল্ল্যাকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন—জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির বর্তমান প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন এবং আইনজীবী ফয়সালা দস্তগীর।

​মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব অংগ্যজাই মারমা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

আরও পড়ুন:
বিসিবিতে ১৬ বছরের অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ: ফেঁসে যাচ্ছেন প্রভাবশালীরা!

​হাবিবুল বাশারকে নিয়ে আলোচনা

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন বর্তমানে বিসিবির প্রধান নির্বাচক হিসেবে কর্মরত। তিনি বিসিবির একজন বেতনভুক্ত কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও এমন একটি সংবেদনশীল তদন্ত কমিটিতে তাঁকে রাখায় ক্রীড়াঙ্গনে কিছুটা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান সিরিজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার পাশাপাশি তাকে এই তদন্ত কাজেরও সময় দিতে হবে।

উল্লেখ্য, সুমন ক্রীড়াঙ্গনের সমস্যা নিরসন সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

​যে কারণে বিশ্বকাপে ছিল না বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না খেলার প্রেক্ষাপটটি ছিল বেশ নাটকীয়। ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা বাংলাদেশের জন্য ‘অনিরাপদ’ দাবি করে একটি স্ট্যাটাস দেন। বিসিবিও সেই অবস্থানে অনড় থাকে।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ আইসিসির কাছে ভেন্যু পরিবর্তন করে শ্রীলঙ্কায় খেলার দাবি জানালেও আইসিসি তা নাকচ করে দেয়।

উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের মূল আসরে বাংলাদেশের আর খেলা হয়নি।

এখন এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেই উঠে আসবে, সেদিনের সেই সিদ্ধান্তগুলো কতটা যৌক্তিক ছিল এবং এর ফলে দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না।

আরও পড়ুন:
টি-২০ বিশ্বকাপে ফিক্সিং! ডকুমেন্টারিতে সব ফাঁস, তদন্তে আইসিসি