মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিন বিকেলের ঘটনা। বাংলাদেশের এক্সপ্রেস বোলার নাহিদ রানার করা প্রথম বলটিই সজোরে আঘাত হানে পাকিস্তানি ওপেনার আজান আওয়াইসের হেলমেটে। কনকাশন পরীক্ষার জন্য খেলা বন্ধ থাকে মিনিট পাঁচেক। সেই একটি আঘাতই যেন ২১ বছর বয়সী এই তরুণের ভেতরে জেদ চেপে দিয়েছিল। সেই জেদ থেকেই জন্ম নিল এক মহাকাব্যিক ইনিংস—বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকেই সেঞ্চুরি!
আঘাত থেকে আত্মবিশ্বাস: আজানের ঘুরে দাঁড়ানো
তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে আজান আওয়াইস শোনালেন সেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা। নাহিদ রানার বাউন্সারের পর কেমন লেগেছিল?
আজান বলেন, “আমি নার্ভাস হইনি; কিন্তু যখন বলটা হেলমেটে লাগল, মিনিট পাঁচেকের মতো মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছিলাম।”
“এরপরই নিজের ভেতরে জেদ অনুভব করলাম। বুঝতে পারলাম, আমি কে—তা দেখিয়ে দেওয়ার এটাই সময়।”
প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী কাজও করেছেন তিনি। নাহিদ রানার করা পরের ওভারগুলোতে টানা তিনটি চার মেরে নিজের আগ্রাসন বুঝিয়ে দেন আজান। তাঁর ১০৩ রানের ইনিংসের ১৪টি চারের ৭টিই এসেছে নাহিদের বলে।
রেকর্ড বইয়ে আজান
পাকিস্তানের ৭৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে ১৫তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন আজান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে এই নজির পাকিস্তান ক্রিকেটে এর আগে মাত্র দুজনের ছিল—২০০১ সালে তৌফিক উমর এবং ২০০৩ সালে ইয়াসির হামিদ।
৩৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১০টি সেঞ্চুরি করা আজান প্রমাণ করলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের ফর্ম তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চেও বয়ে আনতে সক্ষম।
দলের জন্য অবদান ও রমিজ রাজার প্রশংসা
ইমাম-উল-হকের সঙ্গে ১০৬ এবং আব্দুল্লাহ ফজলের সঙ্গে ১০৪ রানের দুটি শতরানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে শক্ত ভিত এনে দেন আজান।
সিনিয়র সতীর্থ ইমামের অভিজ্ঞতা তাঁর ব্যাটিংকে সহজ করে দিয়েছিল বলে জানান তিনি। ধারাভাষ্যকক্ষে বসে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রমিজ রাজাও আজানের মাঝে আগামীর বড় তারকা হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন।
আজান অবশ্য মাটিতেই পা রাখছেন। তাঁর মতে, “আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কঠিন। কারণ এখানে প্রতিপক্ষ আপনার দুর্বলতা নিয়ে পরিকল্পনা করবে, আর আপনাকেই সেই জট খুলে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।”
বাবার হাত ধরে ক্রিকেটে আসা এই তরুণ আপাতত নিজের অভিষেক ম্যাচটি রাঙাতে পেরে খুশি।

