বিসিবির বোর্ড সভায় সভাপতিত্ব করেন তামিম ইকবাল।বিসিবির বোর্ড সভার ছবি।

বিসিবির নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত স্থগিত চেয়ে আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি রিট আবেদন করেছেন সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী। গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে এই অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করেছিল।

কেন এই রিট?

রিট আবেদনকারী আইনজীবী মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা যায়। কিন্তু বিসিবির নির্বাচিত কমিটির বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হওয়া বা স্বার্থবিরোধী কাজের কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আইন অনুসরণ না করেই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি আবেদনকারীদের।

রিটে অ্যাডহক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। রিটে বিবাদী করা হয়েছে যুব ও ক্রীড়াসচিব, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতিকে।

আরও পড়ুন: বিসিবির কমিটি ভাঙার যত কারণ, যে কারণে তামিম ইকবাল দায়িত্বে

অ্যাডহক কমিটি ও তার সদস্যবৃন্দ

তামিম ইকবালের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে সাবেক ক্রিকেটার মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও আতহার আলী খান থাকলেও বাকি সদস্যদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা চলছে। ১১ সদস্যের এই কমিটিতে চারজন সদস্য সরাসরি বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও প্রভাবশালী নেতাদের পরিবারের সদস্য।

রাশনা ইমাম: সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের স্ত্রী।

মির্জা ইয়াসির আব্বাস: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে।

সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে।

ইসরাফিল খসরু: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে।

এছাড়াও কমিটিতে তানজিল চৌধুরী, মির্জা সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহার মতো প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও সাবেক বোর্ড কর্মকর্তারা রয়েছেন।

আরও পড়ুন: বুলবুলের দাবি তিনি ‘বৈধ’, তামিমের কমিটি ‘অবৈধ’: লড়াই তবে আদালতে!

তামিমের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ

বিসিবি সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তামিম ইকবাল ইতিমধ্যে এনসিএল সংস্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। তবে হাইকোর্টে এই রিট আবেদনের ফলে তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিটির আইনি ভিত্তি এখন প্রশ্নের মুখে।

আগামী সপ্তাহে শুনানির পর জানা যাবে, তামিম ইকবালের এই বোর্ড কাজ চালিয়ে যেতে পারবে নাকি নির্বাচিত কমিটি আবার দায়িত্বে ফিরবে।