বিসিবির বিদায়ী সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও এডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল।আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও তামিম ইকবাল। ছবি: সংগৃহিত

দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) এক বিশাল প্রশাসনিক রদবদল ঘটেছে। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের একটি শক্তিশালী অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। আজ বিকেলে এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান এক সংবাদ সম্মেলনে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। নতুন এই কমিটির কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে আগামী তিন মাসের জন্য বিসিবির দায়িত্ব, যার নেতৃত্বে থাকবেন জাতীয় দলের সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

কেন ভেঙে দেওয়া হলো বুলবুলের বোর্ড?

সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি বিসিবি নির্বাচনে যে ভয়াবহ অনিয়মের চিত্র তুলে ধরেছে, তাই মূলত এই বোর্ড বিলুপ্তির প্রধান কারণ। এনএসসি নীতিমালার ২১ ধারা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে মূলত তিনটি বড় অভিযোগ উঠে এসেছে:

সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ: সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি এবং তাঁর এপিএস জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাউন্সিলর বানানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।

ই-ভোটিং জালিয়াতি: নির্বাচনে ব্যবহৃত ই-ভোটিংয়ের গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়নি। অভিযোগ আছে, অনেক কাউন্সিলরকে রাজধানীর একটি হোটেলে একত্রিত করে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে বাধ্য বা প্রভাবিত করা হয়েছে।

বুলবুলের ক্ষমতার অপব্যবহার: তদন্ত অনুযায়ী, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে একক সিদ্ধান্তে ১০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করেছিলেন, যা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে।

আরও পড়ুন: ভেঙে যাচ্ছে বিসিবি! ‘বুলবুল’ পর্ষদের বিদায়ঘণ্টা

তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন যুগের সূচনা

তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এনএসসি যখন বিসিবি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন বিসিবির ইমেজ পুনরুদ্ধার ও একটি স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজন ছিল একজন সৎ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বের। সেই জায়গা থেকেই তামিম ইকবালকে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে।

তবে এর পেছনে ‘ভিন্ন কারণ’ আছে বলে অনেকের ধারণা। তামিম ইকবাল বিসিবির গত নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তখন নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ান তিনি। বিএনপি সরকারের সুনজরে তিনি রয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

আরও পড়ুন: টালমাটাল বিসিবিতে হচ্ছেটা কী! নেপথ্যে এনএসসির তদন্ত?

অ্যাডহক কমিটিতে আর কারা আছেন?

তামিম ইকবালের সাথে এই কমিটিতে রয়েছেন সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু এবং জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান। এছাড়া কমিটির সদস্য পদে ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ঘরানার ব্যক্তিদের সমন্বয় দেখা গেছে:

সদস্যরা: ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম (বিএনপি নেতা ববি হাজ্জাজের স্ত্রী), মির্জা ইয়াসির আব্বাস (মির্জা আব্বাসের ছেলে), সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ (সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে) এবং ইসরাফিল খসরু (আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে)।

অন্যান্যরা: প্রাইম ব্যাংকের চেয়ারম্যান তানজিল চৌধুরী, ইস্পাহানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।

আইসিসি নিষেধাজ্ঞার কি কোনো ঝুঁকি আছে?

ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে আইসিসি সাধারণত নিষেধাজ্ঞা দেয়। তবে এনএসসির পরিচালক আমিনুল এহসান এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানান, বোর্ড বিলুপ্তির কারণ ও নতুন অ্যাডহক কমিটির নাম ইতিমধ্যেই ইমেইলের মাধ্যমে আইসিসিকে জানানো হয়েছে। আইনি ও প্রশাসনিক অনিয়মের কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে একে ‘সরকারি হস্তক্ষেপ’ হিসেবে দেখছে না এনএসসি।