বিপিএল শুরুর পর থেকেই হতাশার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টানা হার, ছন্দহীন ক্রিকেট আর পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে পড়ে থাকা—সব মিলিয়ে দলটি ছিল সমালোচনার কেন্দ্রে। তবে নিজেদের অষ্টম ম্যাচে এসে শুধু জয় নয়, বিপিএলের ইতিহাসে এক অনন্য মুহূর্ত উপহার দিল নোয়াখালীর নতুন এই ফ্র্যাঞ্চাইজি।
রোববার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে একাদশ ঘোষণাতেই তৈরি হয় ইতিহাস। আফগানিস্তানের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবি এবং তার ছেলে হাসান ইশাখিল—একই দলে, একই একাদশে। বিপিএলের ইতিহাসে এই প্রথম বাবা ও ছেলে একসঙ্গে কোনো ম্যাচে খেলতে নামলেন।
নতুন দল, নতুন অধ্যায়
এবারই প্রথম বিপিএলে অংশ নিচ্ছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দলের সঙ্গে ছিলেন হাসান ইশাখিল। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ব্যস্ততা শেষে কয়েক ম্যাচ পর দলে যোগ দেন মোহাম্মদ নবি। অষ্টম ম্যাচে এসে অবশেষে বাবা–ছেলেকে একসঙ্গে একাদশে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয় দল ব্যবস্থাপনা।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে মাঠের মাঝখানে। তৃতীয় উইকেটে হাবিবুর রহমান সোহান আউট হওয়ার পর ইশাখিলের সঙ্গে ব্যাট করতে নামেন তার বাবা মোহাম্মদ নবি। একই পিচে, একই দলে—বাবা ও ছেলের যুগলবন্দি বিপিএলে এক অনন্য দৃশ্য হয়ে রইল।
ইশাখিলের ব্যাটে আত্মবিশ্বাস
ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় নোয়াখালী। সৌম্য সরকারের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন হাসান ইশাখিল। শুরু থেকেই তার ব্যাটিংয়ে দেখা যায় পরিণত মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাস। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থেকে খেলছিলেন দলের সর্বোচ্চ ৬৩ রান, বল খেলেছেন ৪৮টি। অন্য প্রান্তে মোহাম্মদ নবি ছিলেন ৭ রান নিয়ে।
স্বপ্ন আর বাস্তবতা
৪১ বছর বয়সী মোহাম্মদ নবির দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—ছেলের সঙ্গে একই দলে ক্রিকেট খেলা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা, তা সময়ই বলবে। তবে বিপিএলের মঞ্চে ঠিকই বাস্তবে রূপ নিল সেই আবেগঘন মুহূর্ত।
বিরল ঘটনা
ঘরোয়া ক্রিকেটে বাবা–ছেলের একসঙ্গে খেলার ঘটনা খুবই বিরল। এর আগে প্রায় এক যুগ আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি শিবনারায়ন চন্দরপল এবং তার ছেলে ত্যাগনারায়ন চন্দ্রপল একসঙ্গে খেলেছিলেন। ২০১৪ সালে পিতার নেতৃত্বেই মাঠে নেমেছিলেন ত্যাগনারায়ন। সেই তালিকায় এবার নাম লেখাল নোয়াখালী এক্সপ্রেসের এই বাবা–ছেলে জুটি।
হার দিয়ে শুরু করা একটি দলের জন্য এটি কেবল একটি ম্যাচ নয়—বিপিএলের ইতিহাসে স্থায়ী হয়ে থাকার মতো এক স্মরণীয় অধ্যায়।

