BCCI BCB PCB Cricfoot24

ভারতে গিয়ে আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না—এই অনড় অবস্থান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়ার পর নতুন মাত্রা পেয়েছে পুরো বিষয়টি।

বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্দরমহলে আলোচনায় উঠে এসেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নাম। প্রশ্ন উঠছে, কেন হঠাৎ করেই বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের আগ্রহ দেখাচ্ছে পাকিস্তান?

শুরুটা কোথায়

ঘটনার সূত্রপাত আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে। কেন বাদ দেওয়া হলো—এ নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি কেকেআর কিংবা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। তবে উগ্রবাদী চাপের অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি আর কেবল ক্রিকেটীয় থাকেনি। দ্রুতই তা ছড়িয়ে পড়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার স্তরে।

এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করা হয়। পাশাপাশি আইসিসিকে জানিয়ে দেওয়া হয়, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না বাংলাদেশ।

সূচি ও জটিলতা

বর্তমান সূচি অনুযায়ী, আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম তিনটি গ্রুপ ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায়। শেষ গ্রুপ ম্যাচটি নির্ধারিত মুম্বাইয়ে। কিন্তু বিসিবির অবস্থানের কারণে পুরো সূচিই এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

এই পরিস্থিতি নিরসনে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহর সঙ্গে বিসিসিআই কর্মকর্তাদের গুজরাটের বরোদরায় বৈঠকের কথা শোনা গেলেও, সেটির ফলাফল এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।

দৃশ্যপটে পাকিস্তান

এমন টানাপোড়েনের মধ্যেই পাকিস্তানের জিও নিউজ জানায়, বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজনের আগ্রহ দেখিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। পিসিবির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কা যদি ভেন্যু হিসেবে চূড়ান্ত না হয়, তাহলে পাকিস্তান বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত।

পিসিবির দাবি, তাদের মাঠ ও অবকাঠামো আন্তর্জাতিক মানের এবং যে কোনো সময় আইসিসির চাহিদা পূরণে সক্ষম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ২০২৫ এবং নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব সফলভাবে আয়োজন করে তারা আন্তর্জাতিক মহলের আস্থা অর্জন করেছে—এই যুক্তিও তুলে ধরা হচ্ছে।

কেবল ক্রিকেট নয়, বার্তাও আছে

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই আগ্রহের পেছনে কেবল ম্যাচ আয়োজন নয়, কৌশলগত বার্তাও রয়েছে। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ক্রিকেটীয় ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানকে নীরব সমর্থন জানানো পাকিস্তানের জন্য একটি কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

যদিও পিসিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসির কাছে কোনো প্রস্তাব দেয়নি, তবে বিসিবির ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে তারা সমর্থন করছে—এমন ইঙ্গিত স্পষ্টভাবেই মিলছে।

সামনে কী

সবশেষ সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে আইসিসির ওপর। তারা বাংলাদেশ, ভারত ও বিকল্প ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় থাকা দেশগুলোর সঙ্গে কীভাবে সমাধানে পৌঁছায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে এটুকু নিশ্চিত—বাংলাদেশের একটি সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের মানচিত্রে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, আর সেই সুযোগ নিতে প্রস্তুত পাকিস্তান।