চেলসির জন্য এবারের মৌসুমটি যেন একটি দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। নটিংহাম ফরেস্টের কাছে ঘরের মাঠে ৩-১ গোলের হারের পর ব্লুজদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার ক্ষীণ আশাটুকুও এখন বিলীন হওয়ার পথে। মাঠের ব্যর্থতার পাশাপাশি ক্লাবের আর্থিক পরিস্থিতি এবং মালিকানা নিয়ে সমর্থকদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ চেলসিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
রেকর্ড গড়া হারের স্বাদ
নটিংহাম ফরেস্টের বিপক্ষে হারটি ছিল চেলসির টানা ষষ্ঠ লিগ পরাজয়, যা ১৯৯৩ সালের পর প্রথম। এছাড়া ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম ঘরের মাঠে টানা চারটি ম্যাচ হারল তারা।
অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ক্যালাম ম্যাকফারলেনের অধীনে থাকা চেলসি এখন পঞ্চম স্থানে থাকা অ্যাস্টন ভিলার চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে আছে, অথচ হাতে আছে মাত্র ৩টি ম্যাচ। এমনকি ষষ্ঠ স্থানে থেকে ইউরোপা লিগে সুযোগ পাওয়ার পথটিও এখন তাদের জন্য দুর্গম।
আরও পড়ুন:
১১৪ বছরের পুরনো লজ্জায় চেলসি! ধ্বংসের মুখে ব্লু-কো প্রজেক্ট?
আর্থিক বিপর্যয় ও উয়েফার নিষেধাজ্ঞা
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সুযোগ না পাওয়া চেলসির জন্য শুধু মাঠের লড়াইয়ে নয়, আর্থিকভাবেও বিশাল বড় ধাক্কা। ক্লাবের ২০২৪-২৫ সালের প্রকাশিত হিসাবে দেখা গেছে, রেকর্ড ২৬২ মিলিয়ন পাউন্ড কর-পূর্ব লোকসান হয়েছে তাদের।
আয়ের পার্থক্য: চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে চেলসির আয় হয় প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড (পুরস্কারের অর্থ ও স্পনসরশিপসহ), যেখানে কনফারেন্স লিগ জিতলেও আয় মাত্র ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড।
উয়েফার কড়াকড়ি: উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী চেলসির লোকসান ৫২.২ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হলে তারা জরিমানার মুখে পড়বে। আর যদি লোকসান ৬৯.৭ মিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যায়, তবে আগামী তিন মৌসুমের মধ্যে এক বছরের জন্য ইউরোপীয় টুর্নামেন্ট থেকে নিষিদ্ধ হতে পারে ক্লাবটি।
মালিকপক্ষ ও সমর্থকদের সংঘাত
টড বোয়েলি এবং ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটালের বিনিয়োগের ধরণ নিয়ে চেলসি সমর্থকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। গ্যালারিতে এখন নিয়মিতই মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে স্লোগান শোনা যাচ্ছে।
‘নট এ প্রজেক্ট সিএফসি’ নামক একটি প্রতিবাদী গোষ্ঠী ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে এফএ কাপ ফাইনালের আগে এবং স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে টটেনহ্যামের বিপক্ষে ম্যাচে বড় ধরনের প্রতিবাদের পরিকল্পনা করছে।
সমর্থকদের দাবি, মালিকপক্ষ চেলসির ঐতিহ্য নষ্ট করছে এবং ক্লাবটি এখন একটি ‘ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠানে’ পরিণত হয়েছে।
আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ: নতুন কোচ ও দলবদল
চেলসি এখন পরবর্তী কোচ হিসেবে জাভি আলোনসো, আন্দোনি ইরাওলা বা মার্কো সিলভার মতো নামগুলো নিয়ে ভাবছে। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ না থাকলে বিশ্বসেরা কোচ বা খেলোয়াড়দের আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়বে। জ্যামি ক্যারাঘারের মতে, চেলসি এখন একটি ‘ব্রোকেন ফুটবল ক্লাব’।
বিপুল অর্থ খরচ করে খেলোয়াড় কিনলেও তার সুফল মাঠে আসছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোল পালমার বা মইসেস কাইসেডোর মতো তারকাদের বিক্রি করার সম্ভাবনা ক্লাব কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করলেও, হিসাব মেলাতে খেলোয়াড় বিক্রি করা ছাড়া চেলসির সামনে আর কোনো সহজ পথ খোলা নেই।
আরও পড়ুন:
ধ্বংসের কিনারে চেলসি: ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচটিই শেষ সুযোগ!

