চেলসির জার্সিতে কোল পামারের অভিব্যক্তিকোল পামার। ছবি: গেটি ইমেজেস

মাত্র ছয় মাস আগের দৃশ্যপট আর বর্তমানের বাস্তবতার মধ্যে যেন আকাশ-পাতাল পার্থক্য। প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) বিপক্ষে চেলসির ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ে দুই গোল করে যখন মাঠ মাতিয়েছিলেন কোল পামার, তখন তাকে মনে করা হচ্ছিল স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ভবিষ্যৎ মহাতারকা। কিন্তু ফুটবল বিশ্বে সময় বদলাতে সময় লাগে না। বর্তমানে সেই পামারকে নিয়েই শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন। চেলসিতে কি তবে তার মন বসছে না? ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের লাল শিবিরে যোগ দেওয়ার আলোচনা এখন ফুটবল মহলে বেশ চাউর।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতি কোল পামারের দুর্বলতা কোনো গোপন বিষয় নয়। ম্যানচেস্টার সিটির একাডেমিতে বেড়ে উঠলেও মনে মনে তিনি সবসময়ই রেড ডেভিলদের অনুরাগী ছিলেন। চলতি মৌসুমে চেলসির হয়ে পামারের ফর্মের গ্রাফ যে নিম্নমুখী, তা স্পষ্ট।

গ্রোয়েন ইনজুরির কারণে চলতি মৌসুমে মাত্র ১১টি ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। এমনকি গত রবিবার ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয়ে দলেই ছিলেন না তিনি। উদ্বেগের বিষয় হলো, পামারকে ছাড়াও চেলসি এখন অনায়াসে জয় তুলে নিচ্ছে।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কি নতুন ঠিকানা?

পামার বর্তমানে পশ্চিম লন্ডনে খুব একটা সুখে নেই—এমন খবর এখন চারদিকে চাউর। এর মধ্যেই শোনা যাচ্ছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আগ্রহের কথা। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে গেলে পামার আবারও দেখা পেতে পারেন জেসন উইলকক্সের, যিনি বর্তমানে ইউনাইটেডের ডিরেক্টর অফ ফুটবল। সিটি একাডেমিতে থাকাকালীন পামারের ফুটবলীয় বেড়ে ওঠার পেছনে উইলকক্সের বড় ভূমিকা ছিল।

পাশাপাশি ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজকে নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী গ্রীষ্মে ৫৭ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ব্রুনো কোনো বিদেশি ক্লাবে চলে যেতে পারেন। তেমনটি হলে মাঝমাঠে পামারের জন্য বড় এক জায়গা তৈরি হবে।

তবে টকস্পোর্টের চিফ ফুটবল করেসপন্ডেন্ট অ্যালেক্স ক্রুক মনে করেন, পামারকে পেতে হলে ইউনাইটেডকে আকাশচুম্বী অর্থ খরচ করতে হবে। কারণ ২০৩৩ সাল পর্যন্ত চেলসির সাথে চুক্তিবদ্ধ এই খেলোয়াড়কে ছাড়তে মোটা অংকের প্রস্তাব প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: রুনি বনাম ওয়ালকট: ২০০৮-এর ইউনাইটেড না আজকের আর্সেনাল, কে সেরা?

কেন এই পারফরম্যান্সের অবনমন?

পামারের বর্তমান ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফুটবল বিশ্লেষক জেফ স্টেলিং। তার মতে, চেলসির ভেতরে কোথাও কোনো সমস্যা হচ্ছে।

স্টেলিং বলেন, “কিছু তো একটা ভুল হচ্ছে। ইনজুরি সমস্যা থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে পামার তার চেনা ছন্দ থেকে যোজন যোজন দূরে আছেন। আমরা যে পামারকে দেখতে ভালোবাসি, এটি সেই পামার নয়।”

চেলসির সাবেক ডিফেন্ডার জেসন কান্ডি মনে করেন, সেরা খেলোয়াড়রা সবসময় চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো বড় আসরে খেলতে চান। চেলসি যদি নিয়মিত ইউরোপের সেরা টুর্নামেন্টে জায়গা করে নিতে না পারে, তবে পামারের মতো খেলোয়াড়রা বিকল্প চিন্তা করতেই পারেন। একই সুরে কথা বলেছেন চেলসি ব্রডকাস্টার ম্যাটিস আরমানি। তার মতে, কেবল চ্যাম্পিয়নস লিগ নয়, লিগ শিরোপার দৌড়েও চেলসির পিছিয়ে থাকা পামারকে দল ছাড়তে প্ররোচিত করতে পারে।

চেলসির এই টালমাটাল পরিস্থিতি আর দলবদলের বাজারের গুঞ্জন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, তা সময়ই বলে দেবে। তবে পামার ও চেলসির এই ক্রমবর্ধমান দূরত্ব ফুটবল ভক্তদের মনে জন্ম দিচ্ছে অনেক প্রশ্নের।