মধ্যরাতের গুঞ্জনে বিভ্রান্তি, সকালে এলো বিসিবির ব্যাখ্যা
বুধবার ভোররাত। যারা একটু দেরিতে ঘুমান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন কিংবা দিনের ব্যস্ততা শেষে গভীর রাতে বিশ্রামে যান—তাঁদের অনেকেই হঠাৎ একটি অস্বস্তিকর খবরে চোখ রাখেন। ইএসপিএনক্রিকইনফোর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আইসিসি বাংলাদেশের অবস্থান মানছে না। বিশ্বকাপে খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে, অন্যথায় পয়েন্ট কাটা যেতে পারে—এমন বার্তাই নাকি দেওয়া হয়েছে।
খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র আলোচনা। পরে ক্রিকবাজও একইরকম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রশ্ন উঠতে থাকে—ক্রিকইনফো ও ক্রিকবাজের প্রতিবেদন কি সত্য? তাহলে কি বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপেই খেলবে না?
এই গুঞ্জনের সত্যতা জানতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একাধিক পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্তত পাঁচজন পরিচালক একই কথা বলেন—এই বিষয়ে আইসিসির পক্ষ থেকে এমন কোনো চূড়ান্ত বার্তা বিসিবি পায়নি।
বিষয়টি নিয়ে বুধবার সকালে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল স্পষ্ট ভাষায় জানান, “ক্রিকইনফোর এই খবর সত্য নয়। আইসিসি কখনই বলেনি যে বিশ্বকাপ খেলতে হলে বাংলাদেশকে ভারতেই যেতে হবে। আমাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত পর্যায়ে আইসিসির একাধিক কর্মকর্তার কথা হচ্ছে।”
বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থায় আগে কাজ করার সুবাদে আইসিসির শীর্ষ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তার সঙ্গেই তাঁর পরিচয় রয়েছে—সে প্রসঙ্গ টানেননি বুলবুল। বরং বিষয়টির বাস্তব অবস্থান পরিষ্কার করতেই মনোযোগ দেন তিনি।
বিসিবি সভাপতি বলেন, “আইসিসি আমাদের কাছে জানতে চেয়েছে আমরা কেন ভারতে যাব না। আমরা তো আমাদের মেইলে উল্লেখ করেছি যে সিকিউরিটি কনসার্ন আছে। আমরা এই কারণে ভারতে যাব না।”
এখানেই বিষয়টির শেষ নয় বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, “তারপরও আইসিসি আরেকবার গতকাল রাতে বিসিবির কী কী নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ আছে, সেগুলোর একটা পূর্ণাঙ্গ বিবরণ চেয়েছে। কী কারণে বিসিবির উদ্বেগ, কেন ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নিরাপদ নন, সেই ব্যাখ্যাটা আইসিসির কাছে দেওয়া হবে।”
এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই যে ধরনের খবর ছড়ানো হয়েছে, সেটিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলেই উল্লেখ করেন বিসিবি সভাপতি।
দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বুলবুল বলেন, “তারপর বলা যাবে আইসিসি কী সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু হুট করে যেটা বলা হয়েছে, আইসিসি বাংলাদেশকে ভারতেই খেলতে বলেছে না হয় বিশ্বকাপে ওয়াকওভার দিতে হবে, এই খবর একদমই মিথ্যা।”
সব মিলিয়ে বিসিবির বক্তব্য পরিষ্কার—এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আইসিসি বিষয়টি বিবেচনার পর্যায়েই রেখেছে, আর মধ্যরাতে ছড়িয়ে পড়া খবরের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার কোনো মিল নেই।

