এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু ফাইনাল হারার পর হতাশ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।হারের যন্ত্রণায় মাথায় হাত রোনালদোর। ছবি: এএফপি

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই ওল্ড ট্রাফোর্ড বা সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর চেনা দৃশ্যটা যেন ফিরে এলো রিয়াদের আল-আউয়াল পার্কে। মাঠের মাঝখানে পাথরের মতো ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন আল নাসরের ফুটবলাররা। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দাঁড়ালেন না। ভারী এক জোড়া পা টেনে টেনে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে চাইলেন তিনি। ডাগআউটের স্টাফরা হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এলেন। কিন্তু সিআরসেভেনের সেদিকে খেয়াল নেই। সোজা গিয়ে বসলেন ডাগআউটের বেঞ্চে।

এরপর ক্যামেরায় যা ধরা পড়ল, তা এক বুক হাহাকার ছড়ানো। দু’হাতে মুখ ঢেকে কাঁদছেন ৩৯ বছর বয়সী এই মহাতারকা। চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়া নোনা জল হাত দিয়ে মুছছেন, কিন্তু সান্ত্বনার কোনো বাঁধই যেন মানছে না সেই অশ্রু। ইউরোপের রাজা এশিয়ায় এসে আরও একবার পুড়লেন ফাইনালের ট্র্যাজেডিতে।

শনিবার রাতে এএফসি চ্যাম্পিয়নস লিগ টু-এর ফাইনালে জাপানের গাম্বা ওসাকার কাছে ১-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আল নাসরের। দাপুটে ফুটবল খেলেও মাঠ ছাড়তে হয়েছে একরাশ কান্নাভেজা শূন্যতা নিয়ে।

আক্রমণের ঝরঝর, তাও গোলশূন্য রাত

গোটা ম্যাচে মাঠের নিয়ন্ত্রণ ছিল আল নাসরের পায়ে। ৬৮ শতাংশ বল দখলে রেখে ওসাকার গোলপোস্টে একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে জর্জ হেসুসের দল। মোট ২০টি শটের বিপরীতে ওসাকা শট নিয়েছিল মাত্র ৩টি। তবে ম্যাচের ২৯ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ১৬ গজ দূর থেকে ডেনিজ হুমেটের করা নিখুঁত নিচু শটটিই ওসাকাকে এনে দেয় শিরোপার আনন্দ।

আরও পড়ুন:
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সামনে ৩টি ‘উচ্চাভিলাষী’ চ্যালেঞ্জ

গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে আল নাসর। আব্দুলরহমান ঘারিবের শট পোস্টে লাগে, সাদিও মানের শট চলে যায় পাশের জালে।

দ্বিতীয়ার্ধে হোয়াও ফেলিক্সের দূরপাল্লার শটও গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। ম্যাচের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ওসাকার ১৮ বছর বয়সী তরুণ গোলরক্ষক রুই আরাকি। একাই রোনালদো-ফেলিক্সদের নিশ্চিত ৬টি গোল সেভ করে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে চেনালেন এই বিস্ময় বালক।

ম্যাচের ৮৬ মিনিটে রোনালদোর শেষ বুলেট গতির শটটিও কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন ডিফেন্ডার গেন্তা মিউরা।

পডিয়ামে গেলেন না অধিনায়ক

ম্যাচ শেষের এই চরম হতাশা রোনালদোকে কতটা চূর্ণ করেছে, তা বোঝা গেল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে।

সাধারণত রানার্স-আপ দল মেডেল নিতে মঞ্চে যায়, অধিনায়কের কাঁধেই থাকে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার ভার। কিন্তু রোনালদো আজ মঞ্চের কাছেও ঘেঁষেননি। ড্রেসিংরুমের অন্ধকার টানেলে নিজেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন। কোচ হেসুসকে সঙ্গে নিয়ে বাকি ফুটবলাররাই মেডেল সংগ্রহ করেন।

২০২৩ সালে আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর এটি ছিল রোনালদোর ১৪তম অফিশিয়াল টুর্নামেন্ট। অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্যি, এর একটিতেও ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারেননি তিনি। আরব ক্লাব চ্যাম্পিয়নস কাপ জিতলেও সেটি ফিফা বা এএফসি অনুমোদিত নয়।

ইউরোপে ৫টি চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা রোনালদোর এশিয়ান রাজত্ব তাই এখনো শূন্যতায় ঘেরা। তবে ফুটবল ঈশ্বর তাঁকে একেবারে খালি হাতে ফেরাতে চান না হয়তো। আগামী বৃহস্পতিবার দামাক এফসির বিপক্ষে সৌদি প্রো লিগের শেষ ম্যাচ। সেখানে জিতলেই লিগ চ্যাম্পিয়ন হবে শীর্ষে থাকা আল নাসর।

বিশ্বকাপের আগে এটাই রোনালদোর আক্ষেপ মোচনের শেষ সুযোগ!

আরও পড়ুন:
ছেলের সঙ্গে আল নাসরে একইসঙ্গে খেলবেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো!