ব্রাজিলের সেই দানি আলভেসের কথা মনে আছে? কেউ কেউ ভুলে যেতে পারেন। দোষটা তাদের না। ‘দোষ’ আসলে আলভেসের নিজেরই!
কারণ, এই ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার যৌন নিপীড়নের দায়ে অভিযুক্ত হন, জেল খাটেন। পরে অবশ্য তার বিরুদ্ধে সাজা বাতিল হয়।
তবে এর মধ্যে পেরিয়েছে তিন বছর। এই দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ফুটবলের বাইরে। কিন্তু এবার ফিরছেন তিনি। এজন্য নিজেই কিনে নিচ্ছেন একটি পর্তুগিজ ক্লাব!
এমন চমকপ্রদ খবর দিয়েছে ফুটবলবিষয়ক নিউজ সাইট ইএসপিএন। তারা জানিয়েছে, ৪২ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার দানি আলভেস পর্তুগালের তৃতীয় বিভাগের দল সাও জোয়াও দে ভেরকে কেনার চুক্তি চূড়ান্ত করার পর্যায়ে আছেন। চুক্তিটি হলে ক্লাবটির সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারহোল্ডার হবেন তিনি। এরপর সেখানে খেলোয়াড় হিসেবে ছয় মাসের চুক্তি করে মৌসুমের বাকি অংশে খেলাই তার লক্ষ্য।
সাও জোয়াও দে ভের নামক ক্লাবটি বর্তমানে তৃতীয় বিভাগ লিগে ৯ম স্থানে আছে।
একসময় বার্সেলোনা, জুভেন্টাস ও পিএসজির মতো ইউরোপের বড় ক্লাবে খেলেছেন আলভেস। কিন্তু ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর আর ফুটবল মাঠে দেখা যায়নি তাকে।
আলভেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনার একটি নাইট ক্লাবে এক নারীকে যৌন নিপীড়ন করেন। এ অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত সাড়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেন আলভেসকে। তবে পরের মাসেই জামিনে মুক্ত হন তিনি।
চলতি বছরের মার্চে আলভেসের বিরুদ্ধে সাজা বাতিল করে স্পেনের কাতালুনিয়া অঞ্চলের হাইকোর্ট। তখন আদালত জানায়, তার বিরুদ্ধে মামলায় ‘অসঙ্গতি’ ও ‘বৈপরীত্য’ রয়েছে।
আলভেস প্রথমবার গ্রেফতার হন ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে। তখনই তার সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে তার ওই সময়কার ক্লাব পুমাস। এ ঘটনায় শুধু ক্লাবই নয়, স্ত্রী জোয়ানা সানসও তাকে ছেড়ে যান।
দানি আলভেস ব্রাজিলের হয়ে দাপটের সাথে খেলেছেন। হলুদ জার্সি ছাপিয়েছেন গায়ে ১২৬ ম্যাচে। তাকে সম্মান দেখিয়ে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে দলের অধিনায়ক বানিয়েছিল ব্রাজিল।

