জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠে ঘাস উপড়ে ফেলে নতুন করে সংস্কার কাজ শুরুর দৃশ্য।নতুন করে চলছে মাঠের সংস্কার কাজ। ছবি: সংগৃহিত

সাড়ে চার বছরের দীর্ঘ সংস্কার শেষে গত জুনে ভুটান ম্যাচ দিয়ে প্রাণ ফিরেছিল ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হলো না এক বছরও। মাত্র আটটি ম্যাচ আয়োজনের পরই মাঠটি খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে লাগানো ঘাস এখন উপড়ে ফেলে নতুন করে আরও ৬২ লাখ টাকা খরচ করে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে বাফুফে। কোটি কোটি টাকার এই প্রকল্পে ঘাস নিয়ে এমন অপেশাদারিত্ব এখন বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্নের মুখে।

নানা জাতের ঘাস বনাম পরিচর্যার অভাব

বাফুফের দাবি, মাঠ সংস্কারের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এক মাঠে হরেক জাতের ঘাস লাগিয়েছিল। কোথাও শক্ত আবার কোথাও নরম শিকড়ের ঘাস থাকায় মাঠের সমতা নষ্ট হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট অন্য একটি সূত্র বলছে ভিন্ন কথা। ঘাস লাগানোর সময় কাজের দীর্ঘ বিরতি এবং সঠিক পরিচর্যার অভাবেই মাঠে ‘বাজে ঘাস’ বা আগাছা জন্মেছে। এখন সেই আগাছা পরিষ্কার করতে গিয়ে পুরো মাঠই উজাড় করে ফেলতে হচ্ছে।

বাফুফে বনাম ঠিকাদারের দায় চাপানোর খেলা

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (NSC) খরচে ঘাস লাগানোর মূল তদারকিতে ছিল বাফুফে। বাফুফের কম্পিটিশন কমিটির চেয়ারম্যান গোলাম গাউস সরাসরি কাজ করা প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করলেও, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘শরীফ অ্যান্ড সন্স’-এর প্রকৌশলী গোলাম রসূল পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন বাফুফের ওপর। তাঁর দাবি, বাফুফে নিজেদের পছন্দমতো অন্য প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে ঘাস লাগিয়েছিল।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কাজ ভালো না হলে বাফুফে মাঠ বুঝে নিল কেন? আর তারা এই মাঠে বড় বড় ম্যাচ আয়োজনই বা করল কীভাবে?”

আরও পড়ুন: ৪ লাখ কোটির মেগা প্রজেক্ট: ভিয়েতনাম বানাচ্ছে বিশ্বের সবচেড়ে বড় স্টেডিয়াম

নতুন করে ৬২ লাখের ধাক্কা

আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে মাঠ প্রস্তুত করার লক্ষ্যে এবার ‘মেটাফোর স্পোর্টস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দিয়েছে বাফুফে। এবার বিদেশ থেকে ‘বারমুডা ঘাস’ আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এই সংস্কারের পুরো ৬২ লাখ টাকাই বহন করতে হবে বাফুফেকে। কারণ এনএসসির সাথে চুক্তি অনুযায়ী মাঠের পরিচর্যার দায়িত্ব বাফুফের।

ফুটবল প্রেমীদের প্রশ্ন—এবারও কি ঘাসের মান নিয়ে এমন নাটক চলবে, না কি স্থায়ী কোনো সমাধান আসবে?