ইউরোপীয় ফুটবলের গোলমেশিন বললেই এখন একটি নাম সবার আগে আসে—হ্যারি কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের এই ব্রিটিশ স্ট্রাইকার চলতি মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৪৫ ম্যাচে ৫৩ বার জালের দেখা পেয়েছেন। পরিসংখ্যানের বিচারে তাঁর ধারেকাছেও কেউ নেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, কেবল এই গোলবন্যাই কি তাঁকে এনে দেবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ‘ব্যালন ডি’অর’? না কি বরাবরের মতো দলীয় শিরোপার অভাব আর অনাকাঙ্ক্ষিত এক অ্যাঙ্কল বা গোড়ালি ইনজুরি তাঁর স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দেবে?
মঙ্গলবার রাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে Real Madrid-এর মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ। এই ম্যাচটিই হতে পারে কেইনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা।
ব্যক্তিগত নৈপুণ্য বনাম দলীয় শিরোপার অলিখিত শর্ত
Ballon d’Or মূলত ব্যক্তিগত পুরস্কার হলেও, গত কয়েক দশকের ইতিহাস বলছে অন্য কথা। ২০০৬ সালের পর থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ বিজয়ী সেই বছরেই হয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন, না হয় বিশ্বকাপ বা ইউরোর মতো বড় কোনো ট্রফি ঘরে তুলেছেন। হ্যারি কেইন গত মৌসুমে বুন্দেসলিগা জিতে তাঁর দীর্ঘদিনের ট্রফি খরা ঘুচিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু ব্যালন ডি’অর জেতার জন্য সেটি যথেষ্ট নয়।
Harry Kane নিজেও স্বীকার করেছেন, “আমি এক মৌসুমে ১০০ গোল করতে পারি, কিন্তু যদি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ বা বিশ্বকাপ না জিতি, তবে ব্যালন ডি’অর জেতা অসম্ভব।”
২০২২ সাল থেকে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের নিয়মেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন ক্যালেন্ডার ইয়ারের বদলে একটি নির্দিষ্ট মৌসুমের পারফরম্যান্স বিচার করা হয়। ফলে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল জেতা এবং ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে আগামী গ্রীষ্মে বিশ্বকাপ জয় করাই হবে কেইনের জন্য শ্রেষ্ঠত্বের সংক্ষিপ্ততম পথ।
আরও পড়ুন: হ্যারি কেইনের দ্রুততম ‘সেঞ্চুরি’!
কেইনের রাজত্বে ভাগ বসাতে প্রস্তুত এমবাপ্পে-ইয়ামালরা
বার্নাব্যুর এই লড়াই কেবল বায়ার্ন বনাম রিয়াল নয়, এটি কেইন বনাম কিলিয়ান এমবাপ্পেরও লড়াই। এমবাপ্পে চলতি মৌসুমে ৩৮ গোল এবং ৪৩টি গোল কন্ট্রিবিউশন নিয়ে কেইনের ঠিক পেছনেই ওত পেতে আছেন। Kylian Mbappe কখনো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতেননি, তবে এবারের আসরে তিনি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১৩ গোল করে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে। যদি এমবাপ্পে রিয়ালকে শিরোপা জেতাতে পারেন বা ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ এনে দেন, তবে কেইনের ৫৩ গোল ম্লান হয়ে যেতে পারে।
পাশাপাশি বার্সেলোনার বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালও বড় হুমকি। ২০২৫ সালের রানার-আপ Lamine Yamal জুলাইয়ে মাত্র ১৯ বছরে পা দেবেন। লা লিগায় বার্সার হয়ে এবং স্পেনের হয়ে যদি তিনি কোনো অবিশ্বাস্য জাদু দেখাতে পারেন, তবে ইতিহাসের প্রথম কিশোর হিসেবে ব্যালন ডি’অর জেতার রেকর্ড গড়তে পারেন তিনি। এছাড়া কেইনের বায়ার্ন সতীর্থ মাইকেল অলিস এবং রিয়ালের ভিনিসিয়াস জুনিয়ররাও সুযোগের অপেক্ষায় আছেন।
আরও পড়ুন: হ্যারি কেইনের জোড়া গোলে ফ্রাঙ্কফুর্টকে হারিয়ে শিরোপার পথে বায়ার্ন মিউনিখ
ব্রিটিশ হিসেবে দুই যুগের আক্ষেপ মোচনের সুযোগ
বিগত ২৫ বছরে কোনো ব্রিটিশ ফুটবলার এই সোনালী ট্রফিটি স্পর্শ করতে পারেননি। ১৯৫৬ সালে প্রথম বিজয়ী স্ট্যানলি ম্যাথিউস থেকে শুরু করে ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েন—মাত্র সাতজন ব্রিটিশ এই গৌরব অর্জন করেছেন। কেভিন কিগান জার্মানির ক্লাব হামবুর্গে খেলে টানা দুবার এই পুরস্কার জিতেছিলেন, যা এখন কেইনের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।
তবে রিয়ালের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কেইনের ইনজুরি বায়ার্ন শিবিরে দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। ফ্রাইবুর্গের বিপক্ষে ৩-২ গোলের নাটকীয় জয়ের ম্যাচেও তিনি মাঠে ছিলেন না। বায়ার্ন কোচ নিশ্চয়ই তাঁর তুরুপের তাসকে রিয়ালের বিপক্ষে ফিট পেতে মরিয়া হয়ে থাকবেন।

