FIFA world cup

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও কয়েক মাস বাকি, কিন্তু তার আগেই মাঠের বাইরের লড়াইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। আসন্ন বিশ্বকাপে টিকিটের ‘অত্যধিক’ দাম নির্ধারণ এবং একচেটিয়া অবস্থানের অপব্যবহারের অভিযোগে ফিফার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (FSE) এবং ইউভোক্তা (Euroconsumers)।

একচেটিয়া আধিপত্যের অভিযোগ

এফএসই-এর দাবি, ফিফা টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে তাদের একচেটিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ফিফা এমন সব শর্ত ভক্তদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে যা একটি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কখনোই গ্রহণযোগ্য হতো না। বিশেষ করে ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ বা চাহিদার ওপর ভিত্তি করে টিকিটের দাম পরিবর্তন করার প্রক্রিয়াকে ভক্তদের জন্য ‘অন্যায্য’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

আকাশচুম্বী দামের পরিসংখ্যান

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা দেখার খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, একজন দর্শক যদি প্রতিটি রাউন্ডের একটি করে মোট ৮টি ম্যাচ দেখতে চান, তবে সর্বনিম্ন ক্যাটাগরিতেও তাঁর খরচ হবে প্রায় ৫,২২৫ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা)।

সবচেয়ে দামি টিকিটের ক্ষেত্রে এই খরচ দাঁড়াবে ১২,৩৫০ পাউন্ডে। অথচ ২০২২ সালে ৭টি ম্যাচ দেখার জন্য এই খরচ ছিল অনেক কম।

‘ধাপ্পাবাজি’ বিজ্ঞাপনের অভিযোগ

ফিফা সম্প্রতি সমালোচনার মুখে কিছু ‘সাশ্রয়ী’ ৬০ ডলারের (৪৫ পাউন্ড) টিকিট বাজারে ছেড়েছিল। তবে এফএসই এটিকে ‘বেইট অ্যাডভারটাইজিং’ বা ধাপ্পাবাজি হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, এই সস্তা টিকিটগুলো সংখ্যার তুলনায় এতই কম যে, এটি কেবল দেখানোর জন্যই করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্য মাত্র ৪০০টি সস্তা টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সমর্থকদের দাবি

এফএসই ডিরেক্টর রোনান ইভাইন জানিয়েছেন, ফিফার সাথে আলোচনা করতে ব্যর্থ হয়েই তারা ইউরোপীয় কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। সমর্থকদের মূল দাবিগুলো হলো:

ডায়নামিক প্রাইসিং বন্ধ: চাহিদার ওপর ভিত্তি করে টিকিটের দাম বাড়ানো যাবে না।

দাম স্থগিত রাখা: এপ্রিলের টিকিট বিক্রির সময় আগের দাম বহাল রাখতে হবে।

স্বচ্ছতা: প্রতিটি ক্যাটাগরিতে কয়টি টিকিট আছে এবং আসন কোথায়, তা বিক্রির ৪৮ ঘণ্টা আগে জানাতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোতে আয়োজিতব্য এই বিশ্বকাপে প্রায় ৭০ লাখ টিকিট ছাড়ার কথা জানিয়েছে ফিফা। তবে টিকিট নিয়ে এই আইনি লড়াই ফুটবল বিশ্বকে নতুন কোনো মোড় দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।