বেশ কিছুদিন ধরেই জল ঘোলা হচ্ছিল বিষয়টি নিয়ে। টু-টায়ার (দ্বি-স্তর) বিশিষ্ট টেস্ট ক্রিকেট চালুর উদ্যোগকে ঘিরে তোড়জোড় চালাচ্ছিল আইসিসি। কিন্তু সেই তোড়জোড় বন্ধ হতে চলেছে।
গেল সপ্তাহে দুবাইয়ে আইসিসির ত্রিমাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ, যেটির প্রধান ছিলেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান রজার টুজ, গ্রুপটি যে সুপারিশমালা রেখেছে, তাতে করে দ্বি-স্তরের টেস্ট চালুর পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল হতে চলেছে।
বরঞ্চ আগামী টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্র থেকে ১২টি পূর্ণ সদস্য দেশের সবকটিকেই টেস্টের অভিজাত ময়দানে দেখা যেতে পারে।
দ্বি-স্তর বিশিষ্ট টেস্ট ক্রিকেটের ভাবনা বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো র্যাঙ্কিংয়ের নিচের দিকের দেশগুলোর নিশ্চয়েই স্বস্তি পাবে। কারণ, দুই স্তরের টেস্ট ক্রিকেট হয়ে গেলে এই দেশগুলো দ্বিতীয় স্তরেই থাকতো, ফলে শীর্ষ স্তরের দেশগুলোর বিপক্ষে তাদের ম্যাচ খেলার সুযোগ সীমিত হয়ে আসতো।
মূলত টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোকে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দুটি স্তরে ভাগ করতে চেয়েছিল আইসিসি। পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে দুটি দলের এক স্তর থেকে আরেক স্তরে উন্নয়ন ও অবনমন পদ্ধতি রাখতে চেয়েছিল তারা। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এমন আলোচনা বেশ জোরদার ছিল।
দ্বি-স্তর হলে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দেশগুলো প্রথম স্তরে থাকতো। তারা নিজেদের মধ্যে আরও বেশি ম্যাচ খেলা এবং আরও বেশি আয়ের সুযোগ পেত। আবার বাজে পারফরম্যান্সের কারণে এসব দেশের কোনোটি দ্বিতীয় স্তরে নেমে গেলে তাদের আয়ে বড় ধাক্কার শঙ্কাও ছিল। এই বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় ছিল বড় দেশগুলো।
এর বাইরে র্যাঙ্কিংয়ের নিচের সারির দলগুলোও এই পদ্ধতিতে সায় দেয়নি।
আইসিসির সভায় ওয়ার্কিং গ্রুপ দ্বি-স্তরের টেস্ট ভাবনা বাদ দিতে বলেছে। তারা সুপারিশ করেছে, যাতে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরের চক্র (২০২৭-২০২৯) থেকে দল বাড়ানো হয়।
বর্তমানে টেস্ট খেলুড়ে দেশ ১২টি, তবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেয় ১০ দল। ২০২৭ সালের জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন চক্রে আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
সিদ্ধান্ত কী হবে, তা জানতে অবশ্য কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে পরবর্তী আইসিসি সভায় আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

