জিম্বাবুয়ে ও আফগানস্তান টেস্ট ম্যাচের একটি দৃশ্য।টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সুযোগ পাচ্ছে জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তান। ছবি: এএফপি

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) কাঠামোতে আমূল পরিবর্তনের কথা ভাবছে আইসিসি। বর্তমানের ৯ দলের পরিবর্তে আগামী চক্র থেকে টেস্ট লিগ ১২ দলে উন্নীত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রথমবারের মতো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ার সুযোগ পাবে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তান। একই সঙ্গে লিগের পয়েন্ট টেবিলে ‘এক ম্যাচের টেস্ট সিরিজ’ বা ওয়ান-অফ টেস্ট অন্তর্ভুক্ত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

রজার টুসের নেতৃত্বে নতুন মডেল

নিউজিল্যান্ডের সাবেক ব্যাটার রজার টুসের নেতৃত্বে গঠিত আইসিসির একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ এই সুপারিশগুলো তৈরি করেছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের বাড়বাড়ন্ত এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঠাসা সূচির চ্যালেঞ্জ সামাল দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে এই গ্রুপটি দুই স্তরের (Two-division) টেস্ট মডেলের প্রস্তাব দিলেও পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর আপত্তিতে তা বাতিল হয়ে যায়।

তবে এবার ১২ দলের বর্ধিত মডেল নিয়ে চলতি মাসের শেষে বা মে মাসের শুরুতে আইসিসির পরবর্তী সভায় চূড়ান্ত আলোচনা হতে পারে।

আরও পড়ুন: আইসিসি দিল সুখবর, ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সরাসরি বাংলাদেশ

ওয়ান-অফ টেস্টে মিলবে পয়েন্ট

বর্তমানে ডব্লিউটিসি চক্রে একটি সিরিজে অন্তত দুটি টেস্ট থাকা বাধ্যতামূলক। তবে অনেক ক্ষেত্রে বড় বোর্ডগুলোর জন্য ছোট দলগুলোর বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ আয়োজন করা আর্থিকভাবে লাভজনক হয় না। ওয়ার্কিং গ্রুপের সুপারিশে বলা হয়েছে, ছোট দেশগুলোর বিপক্ষে একটি মাত্র টেস্ট খেললেও সেটি চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে যুক্ত হবে। এর ফলে বড় দলগুলো জিম্বাবুয়ে বা আয়ারল্যান্ডের মতো দলগুলোকে আতিথ্য দিতে আরও আগ্রহী হবে।

যেমন—দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার পথে কোনো দল জিম্বাবুয়েতে একটি টেস্ট খেলে পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ পাবে। একইভাবে ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলো তাদের ব্যস্ত হোম সামারে একটি ওয়ান-অফ টেস্টের মাধ্যমে ছোট দলগুলোকে সুযোগ দিতে পারবে।

আরও পড়ুন: ক্রিকেটের ‘মানিব্যাগ’ আইসিসি: টাকা আসে কোথা থেকে, কার পকেটে যায় কত?

আর্থিক ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ

ICC’র বর্তমান ৯টি পূর্ণ সদস্য দেশ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ভিত্তিতে দুই বছরে তিনটি হোম ও তিনটি অ্যাওয়ে সিরিজ খেলে। নতুন তিন দেশ অন্তর্ভুক্ত হলে এই চক্রের সূচি কীভাবে সাজানো হবে এবং ছোট বোর্ডগুলো দুই বছরের টানা টেস্ট ক্রিকেটের আর্থিক চাপ সামলাতে পারবে কি না, তা নিয়েও বোর্ড সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে। মূলত ডব্লিউটিসি-কে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও সর্বজনীন করতেই এই ১২ দলের মডেল সাজানো হয়েছে।

স্থগিত সভা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে দোহায় নির্ধারিত আইসিসির গত বোর্ড সভাটি স্থগিত করা হয়েছিল। সেই সভাটি এবার সরাসরি আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। যদিও সভার নতুন তারিখ বা ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ রক্ষায় এই সভার সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।