দুই বছর আগে এই আহমেদাবাদেই বিষাদ নেমেছিল ভারতজুড়ে। ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের সেই স্মৃতি তাড়া করে ফিরছিল কোটি ভক্তকে। কিন্তু ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে সেই হারের জ্বালা মেটাল টিম ইন্ডিয়া। বার্বাডোস (২০২৪) ও দুবাইয়ের (২০২৫) পর এবার আহমেদাবাদে শিরোপা জিতে আইসিসি ট্রফির হ্যাটট্রিক পূর্ণ করল গৌতম গম্ভীরের শিষ্যরা।
এক নতুন ভারতের উত্থান
সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলির নাম এখনো গ্যালারিতে ধ্বনিত হয়, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে এই ভারত সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে কোনো একক সুপারস্টারের চেয়ে ‘টিম গেম’ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং কোচ গৌতম গম্ভীর দলটিকে এমন এক উচ্চতায় নিয়েছেন, যেখানে চাপ সামলে জয় করাটাই এখন অভ্যেস। জিম্বাবুয়ে, ইংল্যান্ড এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২৫০-এর বেশি রান তুলে ভারত প্রমাণ করেছে তারা বর্তমান বিশ্বের সেরা টি-টোয়েন্টি দল।
সূর্যকুমারের অনন্য নেতৃত্ব
কপিল দেব, মহেন্দ্র সিং ধোনি কিংবা রোহিত শর্মার মতো ‘আইকনিক’ আভা না থাকলেও, অধিনায়ক হিসেবে সূর্যকুমার যাদব নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। ৩০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়া এই তারকা এখন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন।
ম্যাচ শেষে সূর্যকুমার যাদব বলেন, “২০২৪ সাল থেকে আমরা পেছনে ফিরে তাকাইনি। আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য ২০২৮ অলিম্পিক সোনা।”
সম্মিলিত প্রচেষ্টার সুফল
পুরো টুর্নামেন্টে ভারতের সাফল্যের কারিগর ছিলেন অনেকেই। শুরুতে ঈশান কিষাণের জোড়া ফিফটি, মাঝপথে অক্ষর প্যাটেলের অলরাউন্ড নৈপুণ্য এবং ফাইনালে অভিষেক শর্মার সময়োপযোগী হাফ-সেঞ্চুরি—সবকিছুই ছিল নিখুঁত। জাসপ্রিত বুমরাহ তো বরাবরের মতোই আস্থার প্রতীক।
আর সঞ্জু স্যামসন? টুর্নামেন্টের শুরুতে অনিয়মিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত ৩টি হাফ-সেঞ্চুরি করে ট্রফি জয়ের মূল নায়ক হয়ে উঠেছেন তিনি।
বাকি বিশ্বের জন্য সতর্কতা
২০২৪ থেকে ২০২৬—এই তিন বছরে ভারত যা অর্জন করেছে, তা অন্য যে কোনো দলের জন্য ঈর্ষণীয়। আইপিএলের অর্থ ও প্রতিভার সঠিক ব্যবহার ভারতকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অজেয় করে তুলেছে। আগামী ২০২৭ ও ২০২৮ বিশ্বকাপেও এই ধারা বজায় রাখতে চায় তারা। ভারতের এই ‘নীল সাম্রাজ্য’ থামানোর মতো শক্তি বর্তমানে কারো আছে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

