বাংলাদেশের ফুটবলে গত চার বছর ধরে ডাগআউটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছেন হাভিয়ের কাবরেরা। লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা অনেক চড়াই-উতরাই পার করলেও এই স্প্যানিশ কোচের ওপর আস্থা রেখেছিল বাফুফে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, কাবরেরার কৌশল আর দল নির্বাচন নিয়ে ততই বাড়ছে সমালোচনা। আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই শেষ হতে যাচ্ছে তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ। তবে বিদায় নেওয়ার আগে কাবরেরা সাফ জানিয়ে দিলেন—তিনি আরও দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের ডাগআউটে থাকতে উন্মুখ।
সিঙ্গাপুর ম্যাচের পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচকে সামনে রেখে আজ থেকে শুরু হয়েছে জাতীয় দলের কড়া অনুশীলন ক্যাম্প। গুলশানের টিম হোটেলে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাবরেরা তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
চুক্তি বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অবশ্যই আমি থাকতে চাই। আমি ফেডারেশনের কথা শুনতে চাই এবং তারাও নিশ্চয়ই আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়। তার ওপর ভিত্তি করেই আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”
‘একটি ম্যাচ দিয়ে বিচার করা ঠিক হবে না’
গুঞ্জন রয়েছে, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে কাবরেরার ভাগ্য। তবে কোচ নিজে এমনটি মনে করেন না। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান, দীর্ঘ সময় দলের সাথে থাকায় ম্যানেজমেন্ট তাঁর সামর্থ্য সম্পর্কে অবগত। তাঁর মতে, কোনো বড় সিদ্ধান্ত শুধু একটি ম্যাচের ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত নয়। সিঙ্গাপুর ম্যাচের পর বাফুফে সভাপতি ও ম্যানেজমেন্টের সাথে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রবাসী তারকা ও কাবরেরার চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ ফুটবল এখন নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। হামজা চৌধুরী ও শমিত সোমের মতো প্রবাসী ফুটবলাররা দলে আসায় প্রত্যাশার পারদ এখন আকাশচুম্বী। তবে সমর্থকদের মনে বড় প্রশ্ন—ইউরোপিয়ান ফুটবল শৈলীতে অভ্যস্ত হামজা-শমিতদের সামলানোর মতো টেকনিক্যাল সামর্থ্য কি কাবরেরার আছে? সমালোচকরা মনে করছেন, দলের শক্তিবৃদ্ধির সাথে সাথে ডাগআউটেও আরও উচ্চমানের কোচ প্রয়োজন।
সিঙ্গাপুর ম্যাচের পর বাফুফে কি কাবরেরার ওপরই আবারও বাজি ধরবে, নাকি নতুন কোনো কোচের সন্ধানে নামবে—তা দেখতে এখন মুখিয়ে আছে এ দেশের ফুটবল অনুরাগী জনতা।

