মালয়েশিয়ান ফুটবল দল।মালয়েশিয়ার ফুটবলে বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়েছে। ছবি: গেটি ইমেজেস

বড় ধরনের জালিয়াতির দায়ে ২০২৭ এশিয়ান কাপে খেলার স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল মালয়েশিয়ার। জাতীয় দলে খেলার অযোগ্য ফুটবলারদের মাঠে নামানোর দায়ে মালয়েশিয়ার দুটি জয় বাতিল করেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। এর ফলে বাছাইপর্বের দৌড় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটকে পড়েছে দেশটি। একই সঙ্গে বড় অংকের আর্থিক জরিমানার মুখেও পড়েছে মালয়েশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।

জয় বাতিল ও পয়েন্ট টেবিলের বিপর্যয়

এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তৃতীয় রাউন্ডে নেপাল ও ভিয়েতনামের বিপক্ষে মালয়েশিয়ার ৩-০ গোলের জয় দুটি বাতিল ঘোষণা করেছে এএফসি। সংস্থাটির তদন্তে উঠে এসেছে, মালয়েশিয়া এমন কিছু খেলোয়াড়কে মাঠে নামিয়েছে যাদের দেশটির হয়ে খেলার বৈধ যোগ্যতা ছিল না। এই রায়ের ফলে ‘এফ’ গ্রুপে শীর্ষ থাকা ভিয়েতনামের চেয়ে ৬ পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছে মালয়েশিয়া।

গ্রুপের আর মাত্র একটি করে ম্যাচ বাকি থাকায় মালয়েশিয়ার আর শীর্ষস্থানে ওঠার কোনো গাণিতিক সুযোগ নেই। ৫ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপ থেকে এশিয়ান কাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভিয়েতনাম।

ফিফা ও সিএএস-এর কঠোর অবস্থান

জালিয়াতির এই ঘটনা প্রথম সামনে আসে গত সেপ্টেম্বরে। স্প্যানিশ ক্লাব দেপোর্তিভো আলাভেসের সেন্টার ব্যাক ফাকুন্দো গারসেসসহ সাত ফুটবলারের বিরুদ্ধে ভুয়া নাগরিকত্বের নথি ব্যবহারের প্রমাণ পায় ফিফা। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত (সিএএস) সম্প্রতি ফিফার দেওয়া শাস্তি আংশিক বহাল রেখেছে।

ওই সাত ফুটবলারকে ১২ মাসের জন্য সব ধরণের অফিশিয়াল ম্যাচে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ফিফার আরোপ করা ৩ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় ৪ লাখ ৪৪ হাজার ডলার) জরিমানাও বহাল রাখা হয়েছে।

বড় জরিমানা ও মালয়েশিয়ার অবস্থান

পয়েন্ট বাতিলের পাশাপাশি এএফসি মালয়েশিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে অতিরিক্ত ৫০ হাজার ডলার জরিমানা করেছে, যা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। এই নজিরবিহীন শাস্তির বিষয়ে মালয়েশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন তাদের ওয়েবসাইটে একটি বিবৃতি দিয়েছে।

তারা জানিয়েছে, এএফসির অফিশিয়াল কাগজপত্র পাওয়ার পর তারা তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বিদেশি খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে খেলানোর এই কেলেঙ্কারি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলে বড় ধরণের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মালয়েশিয়ার এই পরিণতি অন্য দেশগুলোর জন্যও বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।