বাংলাদেশ দলের কোচ হাভিয়ের কাবরেরা।কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ডাগআউটে সবচেয়ে লম্বা সময় কাটানোর রেকর্ডটি এখন হ্যাভিয়ের কাবরেরার দখলে। সাবেক কোচ জেমি ডের ২৯ ম্যাচের রেকর্ড ভেঙে ৩৯ ম্যাচে দাঁড়িয়ে এই স্প্যানিশ কোচ (Spanish Coach)। তবে এশিয়ান কাপ বাছাই মিশন শেষ হওয়ার পর এখন বড় প্রশ্ন—কাবরেরার সাথে বাফুফে কি চতুর্থবার চুক্তি বাড়াবে, নাকি নতুন কোনো মুখ খুঁজবে? এ মাসেই বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলায় বাফুফের ন্যাশনাল টিমস কমিটির শনিবারের সভার দিকে তাকিয়ে দেশের ফুটবল মহল।

পারফরম্যান্সের খতিয়ান: সংখ্যা বনাম বাস্তবতা

কাবরেরার অধীনে ৩৯ ম্যাচের মধ্যে জয় এসেছে মাত্র ১০টিতে, বিপরীতে হার ১৯টি। পরিসংখ্যান বলছে, মোট ম্যাচের প্রায় অর্ধেকই হারতে হয়েছে লাল-সবুজের দলকে। যদিও কাবরেরা নিজে দাবি করেছেন, ফিনিশিংয়ের অভাবে ফল আসেনি কিন্তু মাঠের খেলায় উন্নতি হয়েছে।

কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, ৪ বছরেও একজন মানসম্মত স্ট্রাইকার তৈরি করতে না পারাটা Javier Cabrera’র কোচিং দর্শনের বড় ব্যর্থতা হিসেবেই দেখতে হবে।

হামজা-শামিত ফ্যাক্টর ও বাফুফের দ্বিধা

Hamza চৌধুরী ও শামিত সোমদের মতো হাই-প্রোফাইল ফুটবলাররা যোগ হওয়ার পর বাংলাদেশ দলকে নিয়ে এশিয়ান ফুটবলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিপক্ষ দলগুলোর সমীহ আদায় করলেও মাঠের অর্জনে এখনো বড় কোনো সাফল্য নেই।

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিটি এখন দোটানায়—সামনে জুন উইন্ডো এবং সেপ্টেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এই অল্প সময়ে নতুন কোচ এনে ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে, নাকি পরিচিত কাবরেরাতেই আস্থা রাখা হবে?

সমর্থকদের ক্ষোভ ও ‘সিন্ডিকেট’ বিতর্ক

মাঠের ফলের চেয়েও কাবরেরার বড় চ্যালেঞ্জ হলো সমর্থকদের নেতিবাচক মনোভাব। ইতালি প্রবাসী ফাহামিদুল ইসলাম ইস্যু থেকে শুরু করে দল নির্বাচনে ‘সিন্ডিকেট’ গঠনের অভিযোগে গ্যালারিতে বারবার দুয়োধ্বনি শুনেছেন এই কোচ। মানববন্ধন ও বিক্ষোভের মতো ঘটনাও ঘটেছে তাকে ঘিরে।

বাফুফে যদি শেষ পর্যন্ত কাবরেরার চুক্তি আরও ১ বছর বাড়ায়, তবে ফুটবল সমর্থকদের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ার সম্ভাবনা প্রবল।

আরও পড়ুন:
>> বাংলাদেশ ছাড়তে চান না স্প্যানিশ কোচ কাবরেরা!
>> ভিয়েতনামের কাছে বাংলাদেশের বিপর্যয়ের ৫ কারণ

শনিবারের সভায় কি মিলবে সমাধান?

শনিবারের সভার আলোচ্যসূচিতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোচের নাম না থাকলেও, Asian Cup বাছাইয়ের দুই ম্যাচ (ভারত ও সিঙ্গাপুর) বিশ্লেষণের আড়ালে কাবরেরার ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে। হামজাদের মতো বিশ্বমানের প্রতিভা যে দলের ডাগআউটে আছেন, সেখানে কাবরেরার ট্যাকটিকস কতটা মানানসই—সেই কঠিন মূল্যায়নের ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের ফুটবলের আগামী এক বছরের ভবিষ্যৎ।