যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) লিওনেল মেসির দাপট মাঠের ভেতর যতটা প্রখর, মাঠের বাইরে তাঁর আর্থিক আধিপত্য তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি। এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এমএলএসপিএ) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, লিগটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ বেতনভোগী ফুটবলার হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করেছেন আর্জেন্টাইন এই জাদুকর। বর্তমানে তাঁর বেতন লিগের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপার্জনকারী ফুটবলারের চেয়েও দ্বিগুণের বেশি। শুধু তাই নয়, এমএলএসের ২৮টি দলের পুরো স্কোয়াডের বেতনের চেয়েও বেশি স্যালারি পাচ্ছেন মেসি!
রেকর্ড গড়া চুক্তি ও গ্যারান্টিড ইনকাম
মঙ্গলবার প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, ইন্টার মায়ামির সঙ্গে গত অক্টোবরে নতুন করে চুক্তি নবায়ন করেছেন মেসি। নতুন এই চুক্তি অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক মূল বেতন (Base Salary) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ মিলিয়ন ডলারে। এর আগে তাঁর বেতন ছিল এর প্রায় অর্ধেক।
তবে এখানেই শেষ নয়; বোনাস ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে তাঁর মোট গ্যারান্টিড কমপেনসেশনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বার্ষিক ২৮.৩ মিলিয়ন ডলারে।
আগামী ২০২৮ সাল পর্যন্ত ফ্লোরিডার ক্লাবটিতেই থাকছেন ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি। উল্লেখ্য, আগামী মাসেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ ধরে রাখার মিশনে নামবেন মেসি।
এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ২০২৬ মৌসুমের যে বেতন তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে, এমএলএসের ৩০টি দলের মধ্যে ২৮টি দলের পুরো স্কোয়াডের বেতনে মোট ব্যয়ের চেয়েও বেশি আয় করছেন মেসি।
আরও পড়ুন:
ইন্টার মায়ামিতে শট মেরে ক্যামেরা ভাঙলেন লিওনেল মেসি!
মেসির পেছনেই দক্ষিণ কোরিয়ার সোন
মেসির পরেই এমএলএস-এর সবচেয়ে ধনী ফুটবলারের তালিকায় দুই নম্বরে আছেন দক্ষিণ কোরিয়ার তারকা সন হিউং-মিন। টটেনহ্যামের সাবেক এই অধিনায়ক গত আগস্টে রেকর্ড ২৬ মিলিয়ন ডলার ট্রান্সফার ফি-তে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসিতে (এলএএফসি) যোগ দিয়েছিলেন।
৩৩ বছর বয়সী সোনের বার্ষিক মূল বেতন ১০.৩৬ মিলিয়ন ডলার, আর সব মিলিয়ে তিনি পান ১১.২ মিলিয়ন ডলার।
তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন মেসির ইন্টার মায়ামি ও আর্জেন্টিনা দলের সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল (৯.৭ মিলিয়ন ডলার)। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছেন যথাক্রমে হার্ভিং ‘চাকি’ লোজানো (৯.৩ মিলিয়ন ডলার) এবং মিগুয়েল আলমিরন (৭.৯ মিলিয়ন ডলার)।
অর্থের ঝনঝনানি ইন্টার মায়ামিতে
মেসি ও ডি পলের মতো তারকাদের ভিড়ে ইন্টার মায়ামির মোট পে-রোল বা বেতনের খরচও আকাশচুম্বী। মায়ামি বছরে ফুটবলারদের বেতনেই খরচ করে ৫৪.৬ মিলিয়ন ডলার, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা এলএএফসি-র (৩২.৭ মিলিয়ন ডলার) চেয়েও ২০ মিলিয়ন ডলার বেশি।
এমনকি ফিলাডেলফিয়ার মতো ছোট ক্লাবের মোট খরচের চেয়ে মায়ামির খরচ প্রায় পাঁচ গুণ বেশি।
মাঠেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসি
কেবল বেতনের অঙ্কেই নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও মেসি সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে। ইন্টার মায়ামির হয়ে এখন পর্যন্ত ৬৪টি নিয়মিত মৌসুমের ম্যাচে মেসির গোলসংখ্যা ৫৯টি। গত বছর ২৯ গোল করে লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন তিনি। টানা দুই মৌসুম (২০২৪ ও ২০২৫) এমএলএস-এর ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ (MVP) নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি মায়ামিকে ২০২৫ সালে এমএলএস কাপ জেতাতেও মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এমএলএসপিএ-র দেওয়া এই বেতন তালিকার মধ্যে মেসির বিভিন্ন এনডোর্সমেন্ট ডিল বা বিজ্ঞাপনী আয় অন্তর্ভুক্ত নয়। এমনকি ইন্টার মায়ামির শেয়ার কেনার যে অপশন মেসির চুক্তিতে রয়েছে, সেটিও এই হিসাবের বাইরে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল এখন কেবল মেসির জাদুতে নয়, তাঁর বাণিজ্যিক মহিমাতেও বুঁদ হয়ে আছে।

