ঠিক এক বছর আগের কথা। ম্যানচেস্টার সিটির ড্রেসিংরুমে তখন ছিল চরম অস্থিরতা আর হাতাশা। ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো কোনো বড় ট্রফি ছাড়া মৌসুম শেষ করার দ্বারপ্রান্তে ছিল তারা। কিন্তু মাত্র ১২ মাসের ব্যবধানে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেছে। পেপ গার্দিওলা দলটিকে এমনভাবে পুনর্গঠিত করেছেন যে, এখন তারা দ্বিতীয় ইংলিশ ক্লাব হিসেবে ‘ঘরোয়া ট্রেবল’ জয়ের অনন্য রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে। আর এই রেকর্ডটি এর আগে কেবল ২০১৯ সালে গার্দিওলার সিটিই করে দেখিয়েছিল।
নাটকীয় সেমিফাইনাল ও রেকর্ড চতুর্থ ফাইনাল
সাউদাম্পটনের বিপক্ষে এফএ কাপের সেমিফাইনালটি সিটির জন্য মোটেও সহজ ছিল না। এক পর্যায়ে হারের শঙ্কায় থাকলেও শেষ মুহূর্তের দুই গোল সব পাল্টে দেয়। জেরেমি ডোকু এবং নিকো গঞ্জালেসের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে সাউদাম্পটনকে বিদায় করে টানা চতুর্থবারের মতো এফএ কাপের ফাইনালে ওঠার রেকর্ড গড়েছে সিটিজেনরা।
আগামী ১৬ মে ওয়েম্বলিতে শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে চেলসি বা লিডস ইউনাইটেডের মধ্যে কোনো এক দল। গার্দিওলার অধীনে এফএ কাপে সিটির জয়ের হার এখন ৮৫ শতাংশ, যা এই প্রতিযোগিতার ইতিহাসে যেকোনো কোচের জন্য সর্বোচ্চ সাফল্য।
ট্রফিশূন্যতা থেকে ট্রেবলের পথে সমীকরণ
চলতি মৌসুমে ইতিমধ্যে কারাবাও কাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে সিটি। এখন তাদের সামনে বাকি দুই চ্যালেঞ্জ:
১. এফএ কাপ ফাইনাল: ১৬ মে শিরোপা জিতে দ্বিতীয় ট্রফি নিশ্চিত করা।
২. প্রিমিয়ার লিগ: আর্সেনালের সাথে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠার লড়াই। বর্তমানে গানারদের চেয়ে সামান্য পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও গার্দিওলা তার শিষ্যদের নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।
যদিও ট্রেবল নিয়ে এখনই বেশি কথা বলতে নারাজ পেপ। তিনি বলেন, “এখনো অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি। লিগের শেষ ম্যাচের আগে বলা কঠিন যে আমাদের ট্রেবল জয়ের সুযোগ কতটা। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো খেলোয়াড়দের বিশ্রাম এবং আসন্ন ছয়টি ম্যাচের দিকে মনোনিবেশ করা।”
আরও পড়ুন: ৯ বছর পর ম্যান সিটি ছাড়ছেন ‘তুরুপের তাস’ বার্নার্দো সিলভা
নতুন প্রজন্মের দাপট
গত মৌসুমে কেভিন ডি ব্রুইনা, ইলকায় গুন্দোগান এবং এদেরসনের মতো মহাতারকারা যখন ক্লাব ছাড়েন, তখন অনেকেই সিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে নতুন করে দল সাজানো গার্দিওলার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
শুরুর দিকে কিছু ম্যাচে হোঁচট খেলেও সিটির ‘নতুন রক্ত’ এখন ঠিক সময়ে জ্বলে উঠেছে। জেরেমি ডোকুর মতো তরুণ উইঙ্গাররা আক্রমণভাগে গতির ঝড় তুলছেন।
সাবেক সিটি ডিফেন্ডার মিকাহ রিচার্ডসের ভাষায়, “চ্যাম্পিয়নরা জানে কীভাবে খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসতে হয়, সিটি সেটাই করে দেখালো।”
মৌসুম নির্ধারণী সেই ২১ দিন
আগামী ৪ মে এভারটনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে সিটির মরণপণ লড়াই। ২১ দিনের ব্যবধানে তাদের ৬টি কঠিন ম্যাচ খেলতে হবে। এই তিন সপ্তাহই নির্ধারণ করে দেবে গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাবে নাকি হতাশায় মৌসুম শেষ করবে।

