লন্ডনের ওয়েম্বলিতে যখন চেলসির খেলোয়াড়রা সমর্থকদের অভিবাদনে ভাসছিলেন, তখন হয়তো লিয়াম রোজেনিয়রের জন্য দৃশ্যটা ছিল বেশ যন্ত্রণাদায়ক। মাত্র ১০৬ দিন দায়িত্ব পালনের পর যাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল, সেই রোজেনিয়র যদি গ্যালারিতে বসে এই সেমিফাইনাল দেখে থাকেন, তবে তার মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—এই লড়াই করার মানসিকতা আর জয় ক্ষুধা যখন তিনি দায়িত্বে ছিলেন তখন কোথায় ছিল?
মরীচিকা থেকে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-০ গোলের এই জয়টি চেলসির প্রতিভাবান কিন্তু অস্থির একটি দলের দুই রূপই ফুটিয়ে তুলেছে। রোজেনিয়রের অধীনে চেলসি টানা পাঁচ লিগ ম্যাচে কোনো গোল না পেয়ে হারের মুখ দেখেছিল—যা ১৯১২ সালের পর ক্লাবের ইতিহাসে ঘটেনি।
অথচ সেই একই দল ইন্টারিম কোচ ক্যালাম ম্যাকফারলেনের অধীনে ওয়েম্বলিতে ফিরে পেল তাদের লড়াকু মেজাজ। আগামী ১৬ মে এই ওয়েম্বলিতেই ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে ব্লুজরা।
অ্যাব্রামোভিচ স্টাইল ও ব্লু-কো যুগ
চেলসির মালিকানা বদল হলেও ‘ম্যানেজার ছাঁটাই’ করার পুরনো সংস্কৃতি যেন পিছু ছাড়ছে না। রোমান অ্যাব্রামোভিচের সময়ে ১৯ বছরে ১৫ জন ম্যানেজার বদল করে চেলসি ১৮টি বড় ট্রফি জিতেছিল।
আরও পড়ুন:
১১৪ বছরের পুরনো লজ্জায় চেলসি! ধ্বংসের মুখে ব্লু-কো প্রজেক্ট?
বর্তমান মালিকানা ‘ব্লু-কো’র অধীনেও ৮ জন ম্যানেজারের হাত ধরে ৩টি ফাইনাল নিশ্চিত হলো। একটি বিশৃঙ্খল মৌসুমকে শিরোপা দিয়ে রাঙানোর পুরনো কৌশলটিই যেন আবারও সফল হতে যাচ্ছে।
ফার্নান্দেজ ম্যাজিক ও শৃঙ্খলা বিতর্ক
ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে আর্জেন্টাইন তারকা এনজো ফার্নান্দেজের মাথা থেকে। ২৩ মিনিটে তার দুর্দান্ত হেডটিই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। মজার ব্যাপার হলো, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায়ের পর রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ায় রোজেনিয়র এই এনজোকেই দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিলেন।
সেই এনজোই এখন চেলসির ত্রাতা। চলতি মৌসুমে তার গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩-তে। প্রিমিয়ার লিগের মিডফিল্ডারদের মধ্যে কেবল মর্গান গিবস-হোয়াইট (১৬ গোল) তার ওপরে আছেন।
রোজেনিয়রের পতন ও নতুন আশা
ব্রাইটনের কাছে ৩-০ গোলে হার ছিল রোজেনিয়রের জন্য শেষ সুযোগ। ড্রেসিংরুমের আস্থা হারিয়ে ফেলা এই কোচের বিদায়ের পর ইন্টারিম কোচ ক্যালাম ম্যাকফারলেনের ছোঁয়ায় খেলোয়াড়দের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ আমূল বদলে গেছে।
ম্যাকফারলেন বলেন, “এই দলের চরিত্র নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল, কিন্তু আমি কখনো সন্দেহ করিনি। ফলাফলের কারণে মানুষ প্রতিক্রিয়া দেখায়, আসলে এই ছেলেদের জেদ অনেক বেশি।”
আরও পড়ুন:
বিশ্বকাপ নিয়ে সংশয়ে চেলসি তারকা এস্তেভাও, বড় ধাক্কা খেল ব্রাজিল
ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ফাইনালে চেলসি যদি এই পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারে, তবে ধ্বংসস্তূপ থেকেও ট্রফি জয়ের সেই পুরনো জাদু আবারও দেখতে পাবে ফুটবল বিশ্ব।

