দেশের সমর্থকদের সামনে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে (আফকন) শিরোপার স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল স্বাগতিক মরক্কো। কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী ক্যামেরুনকে ২-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কেটেছে তারা। একই দিনে আরেক কোয়ার্টার ফাইনালে মালিকে হারিয়ে শেষ চারে উঠে গেছে সেনেগালও।
রাবাতের প্রিন্স মৌলে আব্দেল্লা স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতে প্রায় ৬৪ হাজার দর্শকের গর্জনে উজ্জীবিত হয়ে খেলেছে মরক্কো। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের পায়ে। পাঁচ ম্যাচে নিজের পঞ্চম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রিয়াল মাদ্রিদের উইঙ্গার ব্রাহিম দিয়াজ। দ্বিতীয়ার্ধে ইসমাইল সাইবারির গোলে জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।
এই গোলের মধ্য দিয়ে আফকনের ইতিহাসে মরক্কোর হয়ে এক আসরে সর্বোচ্চ পাঁচ গোল করার কীর্তি গড়েছেন দিয়াজ। শুধু তাই নয়, শেষ ৫৭ বছরে তিনিই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি টুর্নামেন্টের প্রথম পাঁচ ম্যাচেই গোল করার নজির স্থাপন করলেন—একটি বিরল অর্জন।
ম্যাচের ২৬ মিনিটে আশরাফ হাকিমির কর্নার থেকে আয়ুব এল কাবির হেডে বল লাগে পোস্টে। ফিরতি বল পেয়ে কোনো ভুল করেননি দিয়াজ—সহজ ট্যাপ-ইনে জড়িয়ে দেন জালে। এরপর ৭৪তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাইবারি। আব্দে এজ্জালজুলির বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পিএসভি আইন্দহোভেনের এই মিডফিল্ডার ব্যাক পোস্ট থেকে নিখুঁত ফিনিশে স্কোরলাইন ২-০ করেন।
এই জয়ের ফলে ২০০৪ সালের পর প্রথমবার আফকনের সেমিফাইনালে উঠল মরক্কো। সেইবার ফাইনালে উঠে তিউনিসিয়ার কাছে হেরেছিল তারা। আবার আয়োজক হিসেবে শেষবার ১৯৮৮ সালে সেমিফাইনালে খেললেও তখন ক্যামেরুনের কাছেই বিদায় নিতে হয়েছিল। তবে এবারের মরক্কো যেন অতীতের সেই ক্ষত ভুলে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্পেই মাঠে নেমেছে—এই ম্যাচে তারই প্রমাণ মিলেছে।
ঐতিহাসিক জয়ের পরও কোচ ওয়ালিদ রেগ্রাগুই ছিলেন সংযত। তিনি বলেন, ‘আমাদের এক সময়ে একটা করে ম্যাচ নিয়ে ভাবতে হবে। এখনো কিছু অর্জন হয়নি।’
২২ বছর পর সেমিফাইনালে ওঠার আনন্দে ভাসলেও তিনি সতর্ক করে দেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মরক্কান সমর্থকেরা আফকনে তাদের দলকে এমন জায়গায় দেখেনি। এটা তাদের প্রাপ্য। তবে আমাদের পা মাটিতে রাখতে হবে, আর এই অর্জনকে আরও ঐতিহাসিক করে তুলতে হবে।’
বিশ্ব র্যাংকিংয়ে আফ্রিকার শীর্ষ দল মরক্কো ২০২২ বিশ্বকাপে খেলেছিল সেমিফাইনালেও। নিজ দেশে আফকন জয়ের প্রত্যাশার চাপ যে কম নয়, সেটাও অজানা নয় কারও কাছে। তবু সেই চাপ সামলেই ধাপে ধাপে লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে দলটি। শনিবার আলজেরিয়া ও নাইজেরিয়ার মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের বিজয়ীর বিপক্ষে সেমিফাইনালে নামবে তারা।
একমাত্র গোলে সেমিফাইনালে সেনেগাল
মরক্কোর সম্ভাব্য বড় প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের জানান দিয়েছে সেনেগালও। আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ র্যাংকিংধারী দলটি কোয়ার্টার ফাইনালে ১০ জনের মালিকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। পশ্চিম আফ্রিকান ডার্বিতে একমাত্র গোলটি করেন এভারটন ফরোয়ার্ড ইলিমান এনদিয়ায়ে।
টানা দ্বিতীয় নকআউট ম্যাচে একজন কম নিয়ে খেলেও মালির পক্ষে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। ফলে চার আসরে তৃতীয়বারের মতো ফাইনাল খেলার হাতছানি সেনেগালের সামনে। ‘লায়ন্স অব তেরাঙ্গা’ সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্ট অথবা সাতবারের চ্যাম্পিয়ন মিশরের বিপক্ষে—এই দুই দলের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর সঙ্গে।
আফকনের মঞ্চে তাই উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। স্বাগতিক মরক্কো আর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সেনেগাল—দুই দলই শিরোপার পথে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে জানিয়ে দিল।

