মুশফিকুর রহিম এবং তাইজুল ইসলাম

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশের সময় কাটছে ভালোই। দলীয় সাফল্য তো আছেই, ক্রিকেটারদরে ব্যক্তিগত সাফল্যেও ভরপুর এই দুই ম্যাচের সিরিজ।

এই যেমন, মুশফিকের উভয় ইনিংসে পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস আর তাইজুলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির চূড়ায় ওঠে যাওয়া।

মিরপুর টেস্ট মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ারের শততম টেস্ট। এই উপলক্ষ কী দারুণভাবেই রাঙালেন এই ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’।

প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি (১০৬) করেন মুশফিক। তিনি ইতিহাসের ১৩তম ব্যাটার, যিনি শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করলেন।

এখানেই থেমে যাওয়া নয়, দ্বিতীয় ইনিংসেও সাবলীল মুশফিকের ব্যাট। বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করায় ৫৩ রানে অপরাজিত রইলেন তিনি।

এর মধ্য দিয়ে জায়গা করে নিলেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের পাশে। ক্রিকেট ইতিহাসে পন্টিং আর মুশফিকই দুই ক্রিকেটার, যারা শততম টেস্টের উভয় ইনিংসে পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস খেললেন।

পন্টিং অবশ্য উভয় ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন।

তাইজুল ওঠলেন শীর্ষে
টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির শীর্ষ নামটি এখন তাইজুল ইসলামের। সাকিব আল হাসানকে টপকে তিনি ওঠে গেছেন চূড়ায়।

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে সাকিবের ২৪৬ উইকেট ছুঁয়েছিলেন তাইজুল।

এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের প্রথম উইকেট শিকার করেই শীর্ষস্থান দখল করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। পরে নিয়েছেন আরও দুটি উইকেট। তার উইকেটসংখ্যা এখন ২৪৯।

সাকিব ১২১ ইনিংসে শিকার করেছিলেন ২৪৬ উইকেট। তাইজুল ১০২ ইনিংসেই টপকে গেলেন তাকে।

তাইজুলের শীর্ষে ওঠার বিষয়টি জানতেন বাংলাদেশ দলের সবাই। তাই আয়ারল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি যখন নিজের প্রথম উইকেট পেলেন, সতীর্থরা সবাই এসে অভিনন্দন জানান তাকে। মুশফিকুর রহিম তো তাকে কোলে তুলে উঁচু করে ধরেন।

বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ৫০৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে আজ চতুর্থ দিন আয়ার‌ল্যান্ড শেষ করেছে ৬ উইকেটে ১৭৬ রান নিয়ে।

তাদের ৪টি উইকেট কাল সকালের সেশনেই হয়তো তুলে নেবে বাংলাদেশ। এক বা একাধিক উইকেট হয়তো পেতে পারেন তাইজুলও। একটি পেলেই তিনি দেশের প্রথম বোলার হিসেবে টেস্টে ২৫০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁবেন।

বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট মেহেদী হাসান মিরাজের। ৯৯ ইনিংসে তার শিকার ২০৯ উইকেট।

চতুর্থ স্থানে থাকা মোহাম্মদ রফিকের উইকেটসংখ্যা ১০০। মাশরাফি বিন মুর্তজা ৭৮ উইকেট নিয়ে পঞ্চম স্থানে।