ইউক্রেনীয় তারকা মিখাইলো মুদরিকেরর প্রিমিয়ার লিগ ক্যারিয়ার রূপ নিয়েছে এক দুঃস্বপ্নে। নিষিদ্ধ মাদক ‘মেলডোনিয়াম’ (Meldonium) গ্রহণের দায়ে তাকে ৪ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইউক্রেন জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় তার মূত্র নমুনায় এই নিষিদ্ধ পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
যদি স্পোর্টস অফ আরবিট্রেশন (CAS)-এ মুদরিকের আপিল খারিজ হয়ে যায়, তবে এটিই হবে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে কোনো খেলোয়াড়ের পাওয়া দীর্ঘতম নিষেধাজ্ঞা।
চেলসির ‘ফ্লপ’ সাইনিং ও মুদরিকের পারফরম্যান্স
২০২৩ সালে শাখতার দোনেৎস্ক থেকে ৮৯ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল চুক্তিতে চেলসিতে যোগ দিয়েছিলেন মুদরিক। কিন্তু স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে তার সময়টা মোটেও ভালো কাটেনি। ৭৩ ম্যাচে মাত্র ১০টি গোল এবং ১১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।
পরিসংখ্যান বলছে, তার প্রতিটি গোল কন্ট্রিবিউশনের পেছনে চেলসির খরচ হয়েছে প্রায় ৪.৩ মিলিয়ন পাউন্ড। গত ২০২৪ সালের নভেম্বরে কনফারেন্স লিগে হাইডেনহেইমের বিপক্ষে ম্যাচের পর থেকেই তিনি মাঠের বাইরে আছেন।
আরও পড়ুন:
প্রিমিয়ার লিগে ফিরল ২৮ বছর আগের ইতিহাস
শাখতার দোনেৎস্কের বিশাল আর্থিক ক্ষতি
মুদরিকের এই নিষেধাজ্ঞায় বড় ধরনের বিপদে পড়েছে তার সাবেক ক্লাব শাখতার দোনেৎস্ক। ক্লাবটির সিইও সেরহি পালকিন জানিয়েছেন, মুদরিকের চুক্তিতে ২৬ মিলিয়ন পাউন্ডের (৩০ মিলিয়ন ইউরো) পারফরম্যান্স-ভিত্তিক বোনাস ছিল। মুদ্রিক যদি মাঠে না নামেন বা চেলসি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পায়, তবে শাখতার এই বিশাল অর্থ হারাবে।
পালকিন বলেন, “এটি আমাদের জন্য বড় একটি আর্থিক ধাক্কা। আমরা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।”
আরও পড়ুন:
প্রিমিয়ার লিগে রেফারির ভুল বাড়ছে: কাঠগড়ায় VAR এবং নতুন বিতর্ক
ভবিষ্যৎ ও আপিল প্রক্রিয়া
শুরু থেকেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। এমনকি নিষেধাজ্ঞার সময়কালেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুশীলন চালিয়ে গেছেন এই আশায় যে, তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মাঠে ফিরবেন।
বর্তমানে এনজো মারেস্কার অধীনে চেলসি শিবিরে তার ফেরার পরিকল্পনা থাকলেও এফএ-র এই রায়ে সব আশার গুড়েবালি। এখন সিএএস (CAS)-এর চূড়ান্ত রায়ের ওপরই নির্ভর করছে মুদরিকের ফুটবল ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ।

