বিপিএলের সদ্য সমাপ্ত আসরে নিলামের সবচেয়ে আলোচিত নামগুলোর একটি ছিল নাঈম শেখ। ১ কোটি ১০ লাখ টাকার বিশাল অঙ্কে তাঁকে দলে ভিড়িয়েছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস। আসর শুরুর আগে মালিকপক্ষ সরে দাঁড়ানোয় তাঁর পারিশ্রমিক নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও, শেষ পর্যন্ত বিসিবি দায়িত্ব নেওয়ায় নাঈমের পকেট ভারী হওয়া নিশ্চিত হয়। তবে কোটি টাকার এই ওপেনার মাঠের লড়াইয়ে কতটুকু উজ্জ্বল ছিলেন?
পরিসংখ্যান বলছে, এবারের আসরে ১২ ম্যাচের ১২ ইনিংসে নাঈমের ব্যাট থেকে এসেছে ২৭২ রান। গড় মাত্র ২৪.৭২ এবং স্ট্রাইক রেট ১২১.৯৭। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আধুনিক মেজাজের সঙ্গে যা খুব মানানসই নয়। বিশেষ করে যখন কোনো ক্রিকেটারের গায়ে ‘কোটিপতি’ তকমা থাকে, তখন সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকে আকাশচুম্বী।
রানের চড়া মূল্য
হিসাব কষলে দেখা যায়, নাঈম শেখের করা প্রতিটি রানের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার ৪৪১ টাকা। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি মাত্র দুটি ফিফটি করতে পেরেছেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ অপরাজিত ৫৪। দলের প্রয়োজনে দ্রুত রান তোলার বদলে ধীরগতির ব্যাটিংই বেশি চোখে পড়েছে।
এমনকি ফাইনালে যখন বড় রানের পাহাড় তাড়া করছিল চট্টগ্রাম, তখন নাঈম ১০ বলে মাত্র ৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ১৭৪ রানের জবাবে তাঁর দল গুটিয়ে যায় মাত্র ১১১ রানে।
নাইম শেখ টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় আছেন ৬ নম্বরে। যেখানে ৩৯৫ রান নিয়ে শীর্ষে আছেন সিলেটের পারভেজ হোসেন ইমন।
চট্টগ্রাম রয়্যালস এবারের আসরে রানার্সআপ হলেও ওপেনিংয়ে নাঈমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেল। টুর্নামেন্ট জুড়ে তিনি ৪০টি চারের মার মারলেও ছক্কা হাঁকাতে পেরেছেন মাত্র ৮টি। পাওয়ার প্লে-তে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের যে দায়িত্ব তাঁর কাঁধে ছিল, তা পূরণে তিনি বারবার ব্যর্থ হয়েছেন।
একদিকে কোটি টাকার পারিশ্রমিক, অন্যদিকে টি-টোয়েন্টির অনুপযুক্ত মন্থর ব্যাটিং—সব মিলিয়ে নাঈম শেখের এবারের বিপিএল অভিযানটি আক্ষরিক অর্থেই ছিল বড্ড ‘ব্যয়বহুল’। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে তাঁর পারিশ্রমিকের অঙ্কই তাই ক্রিকেট দর্শকদের মধ্যে বেশি চর্চিত হচ্ছে।

