ব্রাজিল ফুটবল আর নেইমার যেন সমার্থক হয়ে গেছে। ব্রাজিলের ফুটবলের কথা ওঠলে নেইমারের কথাও চলে আসে। নেইমারের কথা বললে ব্রাজিলের ফুটবলও আলোচনায়।
দীর্ঘদিন ধরে দলের বাইরে থাকলেও নেইমার আছেন আলোচনাতেই। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় আলোচনা, নেইমার কি আর ব্রাজিল জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন? তিনি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবেন?
সহজে প্রশ্ন করা যায়। কিন্তু উত্তর এতো সহজ নয়! নেইমারের ফেরা কিংবা বিশ্বকাপে খেলা অনেকগুলো ‘যদি’ ‘কিন্তু’র ওপর নির্ভর করছে।
তবে নেইমারের সামনে খানিকটা আশার আলো জ্বেলেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী মার্চ অবধি তিনি খেলোয়াড়দের দেখবেন, দল বদলাবেন। এরপর আর কিছু সম্ভব নয়।
ফলে, নেইমারের সামনে মোটামুটি চার মাস সময় আছে নিজেকে প্রমাণ করে দলে ফেরার।
তবে পথটা সহজ নয়। প্রথমত, নেইমারের বর্তমান ফিটনেস একেবারে উচ্চমানের নয়। দ্বিতীয়ত, তার পারফরম্যান্সও আগের মতো নেই। তৃতীয়ত, তিনি বারবার মাঠে মেজাজ হারাচ্ছেন।
এসব পেরিয়ে তিনি কি ফিরতে পারবেন, তা বড় এক প্রশ্ন। আনচেলত্তির মন জয় করতে পারবেন কিনা, তাও সংশয়ের।
ব্রাজিল সমর্থকরা কায়মনোবাক্যে চাইছেন যাতে নেইমার দলে ফিরেন, বিশ্বকাপে খেলেন।
তাদেরকে আশা দেখালেন আনচেলত্তি। তিউনিসিয়া ম্যাচের আগে তিনি বলেন, ‘যারা বিশ্বকাপে থাকতে পারে, সেই তালিকায় নেইমারও আছে। নেইমার এখন সুস্থও। এখন তাকে মাঠে পারফরম্যান্স দেখিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।’
নেইমারের সামনে মার্চ অবধি সময় আছে, সেটাও জানিয়ে দিয়েছেন আনচেলত্তি।
তিনি বলেন, ‘ব্রাজিলিয়ান লিগ শেষ হলে তার কিছুদিন ছুটি থাকবে। এরপর আবার তাকে নিজের যোগ্যতা, মান ও ফিটনেসের প্রমাণ দিতে হবে। চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করার আগে আমাদের হাতে ছয় মাস সময় আছে। দলে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন কি না, তা জানতে আমরা নেইমারসহ সবাইকে পর্যবেক্ষণ করব। আমরা চেষ্টা করছি যেন দলটি বিশ্বকাপের সময় সেরা অবস্থায় থাকে। আমরা সঠিক পথে এগোচ্ছি। মার্চ পর্যন্ত আমি খেলোয়াড় বদলাতে পারবো। আমি বিশ্বাস করি, যারা শেষ পর্যন্ত দলে থাকবে, তারা সবাই টুর্নামেন্টের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে।’
আনচেলত্তির অধীনে বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিল এখন নিজেদের অনেকটাই গুছিয়ে নিয়েছে। দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সেও দেখা গেছে সেই ছাপ।
ছান্দসিক, গতিময় ও ফলনির্ভর ফুটবল খেলছে ব্রাজিল। দলের আক্রমণের খেলোয়াড়েরা দারুণ ছন্দে আছেন। যাঁরা বেঞ্চ থেকে শুরু করছেন, তাঁরাও যথেষ্ট সামর্থ্যবান। এমন দলে জায়গা পেতে নেইমারকে সর্বোচ্চটা দিয়ে প্রমাণ করতে হবে।
এদিকে, নেইমারকে নিয়ে ভিন্ন গুঞ্জন আছে। আগামী বিশ্বকাপের স্কোয়াডে তাকে রাখা হতে পারে, এমনটাই জানিয়েছে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ইউওএল প্রতিবেদক থিয়াগো আরান্তেস। তিনি বলেছেন, ‘এখন এমন একটি ধারণা এরই মধ্যে আছে যে নেইমারকে আসলেই দলে ডাকা হতে পারে, যাতে বিশেষ কোনো ম্যাচে বা মুহূর্তে সে দলের পার্থক্য তৈরি করতে পারে। কোচিং স্টাফরা মনে করেন এটা সম্ভব।’
তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। কারণ, বদলি হিসেবে নিজেকে দেখতে কি নেইমার রাজি হবেন?
আসলে কি হয়, কি হবে, তা দেখতে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

