Hasan Mahmud Noakhali Express Cricfoot24

প্রথমবারের মতো বিপিএলে নাম লিখিয়ে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল নোয়াখালী এক্সপ্রেস। তবে মাঠের ক্রিকেটে তাদের অভিষেকটা মোটেও সুখকর হয়নি। টানা ছয় ম্যাচে হেরে ‘হেক্সা’ যন্ত্রণায় পুড়ছিল নবাগত ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সপ্তম ম্যাচে এসে সেই হতাশার বৃত্ত ভাঙল নোয়াখালী—রংপুর রাইডার্সকে ৯ রানে হারিয়ে পেল বহু কাঙ্ক্ষিত জয়ের স্বাদ।

শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে নোয়াখালী ১৪৮ রানেই গুটিয়ে যায়। ইনিংসের শেষ দিকে রংপুরের বাঁহাতি পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর হ্যাটট্রিক নোয়াখালীর স্কোর বড় হতে দেয়নি। তবে মাঝারি এই পুঁজি শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট বলে প্রমাণ করেন নোয়াখালীর বোলাররা।

বিপিএল ইতিহাসে প্রথম বোলার হিসেবে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করলেন মৃত্যুঞ্জয়। এর আগে ২০২২ সালে তিনি প্রথমবার হ্যাটট্রিক করেছিলেন।

জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় রংপুর। ২১ ও ২৩ রানের মাথায় দুই ওপেনার লিটন কুমার দাস (১৫) ও ডেভিড মালান (৭) সাজঘরে ফেরেন। তাওহীদ হৃদয় ও ইফতিখার আহমেদ জুটি গড়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। হৃদয় ২৯ ও ইফতিখার ৩৭ রান করে আউট হওয়ার পরই রংপুরের ব্যাটিং আবার দুলে ওঠে।

আরও পড়ুন:
মৃত্যুঞ্জয়ের ইতিহাস, বিপিএলে যতো হ্যাটট্রিক
‘হেক্সা’ পূরণ করলো নোয়াখালী এক্সপ্রেস, রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের চতুর্থ জয়

এক প্রান্তে খুশদিল শাহ লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় রংপুরের আশা কিছুটা বেঁচে ছিল। তবে ১৬ বলে ২৪ রান করা খুশদিলকে ফিরিয়ে সেই আশাতেও শেষ আঘাত হানেন হাসান মাহমুদ। শেষ ওভারে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। প্রথম বলেই উইকেট তুলে নেন হাসান। একটি চার হজম করলেও ওভারের বাকি অংশে আরও দুই উইকেট নিয়ে ৯ রানের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।

বল হাতে নোয়াখালীর জয়ের নায়ক হাসান মাহমুদ। ৪ ওভারে ৪ উইকেট নিয়ে রংপুরের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দেন ডানহাতি এই পেসার। এ ছাড়া জহির খান ২টি এবং বিলাল সামি, মোহাম্মদ নবি ও মেহেদী হাসান রানা নেন একটি করে উইকেট।

ব্যাট হাতে নোয়াখালীর হয়ে সর্বোচ্চ ৩৮ রান করেন জাকের আলী অনিক। সৌম্য সরকার ৩১, হাবিবুর রহমান সোহান ৩০ ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ২৮ রান যোগ করেন।

টানা ছয় হারের পর পাওয়া এই জয় নোয়াখালীর জন্য শুধু দুই পয়েন্ট নয়, আত্মবিশ্বাস ফেরানোরও বড় উপলক্ষ হয়ে থাকল। ‘হেক্সা’ হতাশা পেছনে ফেলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিল নবাগত দলটি।