বিপিএলে বিপদে নোয়াখালী!
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) প্রথম অংশগ্রহণেই হতাশার বৃত্তে ঘুরছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। দিনের প্রথম ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে ৪ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্টে টানা ষষ্ঠ পরাজয়ের মুখ দেখল নবাগত দলটি। সেই সঙ্গে নোয়াখালীর জন্য পূর্ণ হলো হারের ‘হেক্সা’। বিপরীতে, এই জয়ে চলতি আসরে নিজেদের চতুর্থ জয় তুলে নিল রাজশাহী।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৫১ রান তোলে নোয়াখালী। জবাবে ৬ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
রান তাড়ায় নেমে দারুণ সূচনা পায় রাজশাহী। ওপেনিং জুটিতে মোহাম্মদ ওয়াসিম ও তানজিদ হাসান তামিম পাঁচ ওভারেই তুলে নেন ৪৭ রান। তবে ষষ্ঠ ওভারে ২১ রান করে আউট হন তানজিদ। এরপর নামা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যর্থ হন পুরোপুরি, করতে পারেন মাত্র ১ রান।
মাঝের ওভারগুলোতে ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন মুশফিকুর রহিম, যদিও তাঁর ব্যাট থেকেও বড় কিছু আসেনি। ২২ বলে ১৯ রান করে আউট হন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
এদিকে একপ্রান্ত আগলে রেখে নিজের ইনিংস বড় করেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। ৩৫ বলে ৬০ রান করে আউট হন এই ডানহাতি ওপেনার। এরপর ইয়াসির রাব্বী (৯) ও এসএম মেহেরব (৮) দ্রুত ফিরে গেলে কিছুটা চাপ তৈরি হয় রাজশাহীর ওপর।
তবে শেষ দিকে রায়ান বার্লের শান্ত ইনিংসেই জয় নিশ্চিত হয় রাজশাহীর। তানজিম হাসান সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। ১৯ রানে অপরাজিত থাকেন বার্ল, আর তানজিম অপরাজিত থাকেন ১ রানে।
আরও পড়ুন:
১৮ বছর বয়সে ইয়ামাল বনাম মেসি: পার্থক্য কোথায়, কে এগিয়ে
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারালেও ধীরগতির ব্যাটিংয়ে মাত্র ৪১ রান তোলে নোয়াখালী। দলীয় ৫৭ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে। ২৮ বলে ৩০ রান করা দীপুরকে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন রিপন মণ্ডল।
এরপর দ্রুত ফেরেন মাজ সাদাকাত। শান্ত’র বলে মারতে গিয়ে পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি, করেন ১৩ বলে ৭ রান।
তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংসের ভার টানেন সৌম্য সরকার। এবারের বিপিএলে আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ হলেও তৃতীয় ম্যাচে এসে তুলে নেন ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি। ৪৩ বলে ৬টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৫৯ রান করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
মাঝে মোহাম্মদ নবি করেন ২৬ বলে ৩৫ রান, যেখানে ছিল ১টি চার ও ৩টি ছক্কা। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৫ বলে যোগ করেন ১০ রান। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পাওয়া হায়দার আলি ৬ বলে করেন মাত্র ৩ রান। শেষদিকে জাকের আলি অনিকের ব্যাটে খেলার সুযোগ আসে মাত্র ১ বল।
সব মিলিয়ে টেনেটুনে ১৫১ রানেই থামে নোয়াখালীর ইনিংস।
রাজশাহীর বোলিংয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন রিপন মণ্ডল। ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। এ ছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত, বিনুরা ফার্নান্দো ও হাসান মুরাদ একটি করে উইকেট শিকার করেন।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। অন্যদিকে জয়খরা কাটাতে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুটা সময়।

