ফুটবলের চরম ব্যস্ত ও ঠাসা সূচির কারণে খেলোয়াড়রা কীভাবে নিজেদের হারিয়ে ফেলছেন, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ম্যানচেস্টার সিটির তারকা মিডফিল্ডার ফিল ফোডেন। এবার ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে এই তারকার বাদ পড়াকে ফুটবল ক্যালেন্ডারের ‘নিষ্ঠুর বলি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন প্রফেশনাল ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) প্রধান নির্বাহী মাহেতা মোলাঙ্গো। সিটির হয়ে চলতি মৌসুমে একেবারেই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন বিশ্বকাপের দল থেকে ফোডেনকে বাদ দিয়েছেন থ্রি লায়ন্সদের কোচ থমাস টুখেল।
বর্ষসেরা থেকে হঠাৎ স্কোয়াডেই নেই ফোডেন
২৫ বছর বয়সী ফোডেনের ফর্মের এই আকস্মিক পতন নিয়ে পেশাদার ফুটবলারদের বৈশ্বিক সংগঠন ‘ফিফপ্রো’র (Fifpro) সাম্প্রতিক এক বৈঠকে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ফিফপ্রোর বোর্ড সদস্য ও পিএফএ প্রধান মাহেতা মোলাঙ্গো মনে করেন, ফোডেন আগের মতো নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে না পারার পেছনে মাঠের ভেতরের চেয়ে বাইরের ক্লান্তিকর সূচিই বেশি দায়ী।
অথচ দুই মরসুম আগেই (২০২৩-২৪) পিএফএ-র বর্ষসেরা খেলোয়াড়সহ একাধিক ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতেছিলেন এই ইংলিশ তারকা।
মোলাঙ্গো ফোডেনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “গত দুই বছরের তুলনায় এবার ফোডেনের ম্যাচ খেলার সংখ্যা যেমন কমেছে, তেমনই মাঠে নামার পরও তাকে চেনা ছন্দে পাওয়া যায়নি। দুর্ভাগ্যবশত, ফোডেন এই পাগলাটে ফুটবল ক্যালেন্ডার বা ঠাসা সূচির অন্যতম প্রধান শিকার। এই সূচি কেবল বাণিজ্যিক মুনাফালোভী মহলের উপকারে আসে, কিন্তু মাঠের ফুটবলের সৌন্দর্য নষ্ট করে এবং খেলোয়াড়দের সুরক্ষাকে হুমকির মুখে ফেলে।”
“ফিল ফোডেনের মতো খাঁটি প্রতিভার ফুটবলার যখন বিশ্বকাপে খেলতে পারে না, তখন তা ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক এক বার্তা।”
আরও পড়ুন:
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলে বড় চমক, বাদ পড়ছেন ফোডেন-ম্যাগুয়ার!
পামারের ছন্দপতন ও ফিফপ্রোর সতর্কবার্তা
ফোডেনের মতোই ঠাসা সূচির গ্যাঁড়াকলে পড়ে চেনা ছন্দ হারিয়েছেন চেলসির ২৪ বছর বয়সী মিডফিল্ডার কোল পামার। চলতি মৌসুমে চরম ফর্মে থাকা সত্ত্বেও চেলসি ও ইংল্যান্ডের ভক্তরা তার প্রতিভার ঝলক খুব কমই দেখতে পেয়েছেন এবং তিনিও জায়গা পাননি টুখেলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে।
ফিফপ্রোর সংগৃহীত তথ্য ও ডেটা অনুযায়ী, খেলোয়াড়রা বছরের পর বছর ধরে এমন উচ্চ-মাত্রার প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেললে একপর্যায়ে তাদের চোটের ঝুঁকি এবং পারফরম্যান্সের গ্রাফ নিচে নামতে বাধ্য। এই তালিকায় আর্সেনালের ইংলিশ মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস এবং লিভারপুলের ডাচ ডিফেন্ডার ভার্জিল ভ্যান ডাইকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। ভ্যান ডাইক লিভারপুলের হয়ে প্রিমিয়ার লিগের সবকটি (৩৮টি) ম্যাচ এবং রাইস আর্সেনালের হয়ে ৩৬টি ম্যাচ খেলেছেন। এর ওপর তাদের এখন খেলতে হবে বর্ধিত ৪৮ দলের বিশ্বকাপে, যেখানে তীব্র গরমের মধ্যে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বকাপ কি হবে টিকে থাকার লড়াই?
পিএফএ প্রধান মোলাঙ্গো আশঙ্কা করছেন, এবারের বিশ্বকাপটি শেষ পর্যন্ত ফুটবলের চেয়ে ‘টিকে থাকার লড়াই’ বা ‘সারভাইভাল অব দ্য ফিটেস্ট’-এ পরিণত হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “সবচেয়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড়রা যখন ক্লাবের হয়ে মৌসুমে ৬০ বা তার কাছাকাছি ম্যাচ খেলে বিশ্বকাপে নামবে, তখন তাদের শরীর আর লড়তে পারবে না। ফলে টুর্নামেন্টটি প্রতিভার বদলে কেবল শারীরিক সক্ষমতার লড়াইয়ে রূপ নেবে।”

