বিগ ব্যাশ
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারেই আক্রমণে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রিশাদ হোসেন। এরপর একে একে ধরেন আরও দুই উইকেট। টানা দুই ম্যাচ উইকেটশূন্য থাকার পর দুর্দান্ত বোলিংয়ে জ্বলে উঠলেন হোবার্ট হারিকেন্সের এই লেগ স্পিনার।
বিগ ব্যাশ লিগে শুক্রবার অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন রিশাদ। ২৪ বলের মধ্যে ১০টিই ছিল ডট। দুটি চার ও একটি ছক্কা হজম করলেও পুরো স্পেলে নিয়ন্ত্রণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি–টোয়েন্টি লিগে অভিষেক ম্যাচে উইকেটের দেখা না পেলেও পরের চার ম্যাচে নিয়মিত শিকার ধরেছিলেন রিশাদ। তবে চলতি মাসের শুরুতে পার্থ স্কর্চার্স ও সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকতে হয় তাঁকে। শুক্রবার সেই খরাই কাটালেন এই লেগ স্পিনার।
বিগ ব্যাশে এটিই রিশাদের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর ৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। আসরে এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচ খেলে তাঁর ঝুলিতে ১১ উইকেট।
অ্যাডিলেইডের রান তাড়ায় ষষ্ঠ ওভারে বোলিংয়ে আসেন রিশাদ। শুরুটা খুব একটা স্বস্তির ছিল না। দ্বিতীয় বলেই লিয়াম স্কট তাকে ছক্কায় উড়িয়ে দেন। তবে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়ান রিশাদ। ওভারের শেষ বলে প্যাডেল সুইপ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দেন হ্যারি ম্যানেন্টি। ওভার থেকে আসে ১০ রান।
নবম ওভারে ফের আক্রমণে এসে প্রথম বলেই স্ট্রাইকার্স শিবিরে ছোবল হানেন রিশাদ। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হন জেমি ওভারটন। ওই ওভারে স্কট দুটি চার মারলেও ১১ রানেই শেষ করেন রিশাদ।
প্রথম দুই ওভারে ২১ রান দিলেও পরের দুই ওভারে দেন মাত্র ৫ রান। তৃতীয় ওভারে স্কট ও লুক উড মিলিয়ে নিতে পারেন কেবল তিনটি সিঙ্গেল। শেষ ওভারে উডকে ফিরিয়ে দিয়ে মাত্র দুই রান খরচ করেন তিনি। বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিডউইকেটে ধরা পড়েন উড।
রিশাদসহ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাঁচ দিন পর ম্যাচ খেলতে নেমে ২৭ রানের জয় পায় হোবার্ট হারিকেন্স। ১৭৮ রানের লক্ষ্য দিয়ে অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্সকে ১৪১ রানেই গুটিয়ে দেয় তারা।
দুই ওভারে ৭ রান খরচায় ২ উইকেট নেওয়ায় ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন হারিকেন্স অধিনায়ক ন্যাথান এলিস।

