হকি তারকা রোমান সরকার।বাংলাদেশের হকি তারকা রোমান সরকার। ছবি: ফেসবুক

ঢাকঢোল পিটিয়ে কোনো বড় ঘোষণা আসেনি, কোনো আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনও ছিল না। বাংলাদেশের হকিতে ইতিহাস লেখা হলো অনেকটা নিভৃতেই। হংকংয়ের বিপক্ষে এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজের ১০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ফেললেন মিডফিল্ডার রোমান সরকার। পেনাল্টি শুটআউটে জয় পাওয়া সেই ম্যাচের পরদিন চায়নিজ তাইপের বিপক্ষে নিজের ১০১তম ম্যাচটিও খেলেছেন কুমিল্লার এই সন্তান।

পরিসংখ্যানের পাতায় রোমান

আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের (FIH) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট মালয়েশিয়ায় এশিয়া কাপের মাধ্যমে রোমানের অভিষেক। এরপর থেকে ১৯টি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ১০১টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যেখানে তার নামের পাশে রয়েছে ৩৪টি গোল। মাইলফলক ছোঁয়ার অনুভূতির চেয়েও দলের ফলাফল নিয়ে বেশি ভাবছেন ২৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়।

রোমান বলেন, “কয়েক বছর আগে ৮০টি ম্যাচ হওয়ার পরই লক্ষ্য ঠিক করেছিলাম ১০০ পূর্ণ করব। তবে এশিয়ান গেমসের বাছাইয়ে পঞ্চম হওয়াটা কিছুটা মন খারাপের।”

বড় ভাই যখন মেন্টর

রোমান সরকারের বেড়ে ওঠা এবং হকির প্রতি নিবেদন খুব কাছ থেকে দেখেছেন দেশের হকির বড় তারকা রাসেল মাহমুদ জিমি। ২০০ ম্যাচের কাছাকাছি থাকা জিমি বলেন, “বিকেএসপি থেকে শুরু করে নৌবাহিনী এবং জাতীয় দল—আমরা সব জায়গায় একসঙ্গে। খেলার প্রতি ওর নিবেদনই ওকে আজ এই জায়গায় নিয়ে এসেছে।”

আরও পড়ুন: তাইপেকে হারিয়ে পঞ্চম বাংলাদেশ: স্বস্তির জয়ে শেষ ‘মিশন ব্যাংকক’

তথ্য সংকটে ‘হকির’ পরিসংখ্যান

বাংলাদেশের হকিতে আন্তর্জাতিক ম্যাচের কোনো অফিশিয়াল পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। ফলে অনেক সময় খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত হিসেবের ওপর নির্ভর করতে হয়। ২০১২ সাল থেকে এফআইএইচ অনলাইনে তথ্য রাখা শুরু করলেও এর আগের পরিসংখ্যানগুলো অনেকটাই অস্পষ্ট।

রাসেল মাহমুদ জিমি: এফআইএইচের মতে ১৪১ ম্যাচ, তবে জিমির নিজের হিসেবে সংখ্যাটা ২০০ ছুঁইছুঁই।

মামুনুর রহমান চয়ন: ২০১২ থেকে ১০৬ ম্যাচ দেখালেও ২০০৬ থেকে হিসেব করলে তা ১৮০-১৮৫টির মতো হবে।

মশিউর রহমান বিপ্লব: ব্যক্তিগত হিসেবে ১০৪-১০৫টি ম্যাচ খেলেছেন।

পুষ্কর খীসা মিমো: ২০১২ থেকে ৯৭ ম্যাচ দেখালেও ২০০৯ থেকে অভিষেক হওয়ায় অনেক আগেই সেঞ্চুরি পার করেছেন তিনি।

আশরাফুল ইসলাম: বর্তমানে ৯৬টি ম্যাচ খেলে শততম ম্যাচের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন এই ডিফেন্ডার।

খেলোয়াড়দের এই ব্যক্তিগত মাইলফলকগুলো কেবল সংখ্যা নয়, বরং দেশে অবহেলিত এই খেলাটির প্রতি তাঁদের আজন্ম ভালোবাসা ও লড়াইয়ের এক অনন্য দলিল বলেই মনে করেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।