চলতি বিপিএলে শরীফুল ইসলাম শুধু চট্টগ্রাম রয়্যালসের ভরসার নাম নন, পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত বোলার। বাঁহাতি এই পেসার ১১ ম্যাচে নিয়েছেন ২৪ উইকেট। গড় ৯.৫৪, ইকোনমি ৫.৬—সংখ্যাগুলোই বলে দিচ্ছে, কতটা নিয়ন্ত্রিত আর বিধ্বংসী ছিল তাঁর বোলিং।
এই পারফরম্যান্সে চট্টগ্রাম রয়্যালস উঠে গেছে ফাইনালে। আর ফাইনালের ঠিক আগে শরীফুলের সামনে হাতছানি দিচ্ছে বড় এক ব্যক্তিগত মাইলফলক—বিপিএলের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড।
রেকর্ডটির বর্তমান মালিক তাসকিন আহমেদ। গত মৌসুমে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট নিয়ে তিনি ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন ২০১৮–১৯ মৌসুমে সাকিব আল হাসানের ২৩ উইকেটের কীর্তি। কিন্তু এক মৌসুম না যেতেই সেই রেকর্ড এখন হুমকির মুখে।
শুক্রবারের ফাইনালে শরীফুল যদি একটি উইকেট পান, তাসকিনের সঙ্গে যৌথভাবে রেকর্ডে জায়গা করে নেবেন। আর দুই উইকেট পেলেই রেকর্ড হবে একান্তই তাঁর।
এবারের বিপিএলে শরীফুলের ধারাবাহিকতা চোখে পড়ার মতো। প্রথম কোয়ালিফায়ার পর্যন্ত ১১ ম্যাচের মধ্যে মাত্র এক ম্যাচে উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি। সেটিও আসরের দ্বিতীয় ম্যাচে—সিলেটে রংপুরের বিপক্ষে ২ ওভারে ১৬ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি।
এরপর যেন বদলে যান এই পেসার। টানা ৯ ম্যাচেই উইকেটের দেখা পেয়েছেন। বিশেষ করে মিরপুরে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ম্যাচটি হয়ে থাকবে স্মরণীয়—৩.৫ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট। এটি তাঁর ১৫৫ ম্যাচের স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার।
খরচের দিক থেকেও ছিলেন বেশির ভাগ সময় নিয়ন্ত্রিত। প্রথম ১১ ম্যাচের চারটিতে ওভারপ্রতি ৬ রানের বেশি দিয়েছেন। ৭ জানুয়ারি সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৩৯ রান দেওয়ার পর অবশ্য দৃশ্যপট বদলে যায়। পরের পাঁচ ম্যাচে টানা ওভারপ্রতি ৫ কিংবা তার কম রান দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চেপে ধরেছেন তিনি।
ফাইনালে উইকেট না পাওয়া শরীফুলের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমই হবে। আর সেটি না হলে—বিপিএলের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ড লেখার অপেক্ষায় শুধু সময় গুনছে শুক্রবারের ম্যাচ।
| বোলার | উইকেট সংখ্যা | দল | মৌসুম | ম্যাচ সংখ্যা |
|---|---|---|---|---|
| তাসকিন আহমেদ | ২৫ | দুর্বার রাজশাহী | ২০২৪-২৫ | ১২ |
| শরীফুল ইসলাম | ২৪* | চট্টগ্রাম রয়্যালস | ২০২৫-২৬ | ১১ |
| সাকিব আল হাসান | ২৩ | ঢাকা ডায়নামাইটস | ২০১৮-১৯ | ১৫ |
| কেভিন কুপার | ২২ | বরিশাল বুলস | ২০১৫-১৬ | ৯ |
| সাকিব আল হাসান | ২২ | ঢাকা ডায়নামাইটস | ২০১৭-১৮ | ১৩ |
| মাশরাফি বিন মুর্তজা | ২২ | রংপুর রাইডার্স | ২০১৮-১৯ | ১৪ |
| রুবেল হোসেন | ২২ | ঢাকা ডায়নামাইটস | ২০১৮-১৯ | ১৫ |
| তাসকিন আহমেদ | ২২ | সিলেট সিক্সার্স | ২০১৮-১৯ | ১২ |
| শরীফুল ইসলাম | ২২ | দুর্দান্ত ঢাকা | ২০২৩-২৪ | ১২ |

