BCB Logo and BCB Director M Nazmul Islam

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে যাচ্ছে বোর্ড সভায়। আগামী ২৪ জানুয়ারি (শনিবার) বিসিবিতে অনুষ্ঠিত হবে সেই সভা, যেখানে নাজমুল ইস্যু নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা রয়েছে।

বিসিবির একজন পরিচালক আজ মঙ্গলবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার নাজমুল ইসলামের মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ক্রিকেটাঙ্গনে শুরু হয় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। সেদিন তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পায়নি বিসিবি।

পরে রাতে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু জানান, কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পরও নাজমুল ইসলামের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিয়ম অনুযায়ী শোকজ নোটিশের জবাব দেওয়ার সময়সীমা ৪৮ ঘণ্টা। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দেননি নাজমুল। সময় পেরিয়ে যাওযার পর গেল রোববার তিনি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেন। তখন বিসিবি জানায়, জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই পুরো বিতর্কের সূত্রপাত গত ১৪ জানুয়ারি। সেদিন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ না নিলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের মুখে পড়েন বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “বিসিবির হবে না, ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে। কারণ ক্রিকেটাররা খেললে ম্যাচ ফি পায়। ম্যাচসেরা হলেও পারফরম্যান্স অনুযায়ী (আলাদা ফি) পায়। এটা শুধুই ক্রিকেটারের পাওয়া। বোর্ডের লাভ-ক্ষতি নেই। অন্তত এই বিশ্বকাপের জন্য। ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, আমরা যে ওদের পেছনে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি?”

এই বক্তব্যের প্রতিবাদে সেদিন রাতেই নাজমুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। একই সঙ্গে বিপিএলসহ সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণাও দেয় সংগঠনটি। এর প্রভাব পড়ে মাঠে—পরদিন বিপিএলের দুটি ম্যাচ স্থগিত হয়ে যায়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হলে রাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিপিএল স্থগিত ঘোষণা করে বিসিবি। পরে বিসিবি ও কোয়াবের বৈঠকের পর শর্তসাপেক্ষে খেলায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেন ক্রিকেটাররা। এর মধ্যেই বিসিবি নাজমুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।

সব মিলিয়ে, নাজমুল ইসলামের বক্তব্য থেকে শুরু হওয়া যে সংকট একপর্যায়ে পুরো বিপিএল স্থগিতের দিকে গড়িয়েছিল, তার ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে ২৪ জানুয়ারির বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের ওপর।