Aiden Markramএবারও দক্ষিণ আফ্রিকার নেতৃত্বে মার্করাম। ছবি: আইসিসি

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য এই বৈশ্বিক আসরে শক্তিশালী পেস আক্রমণের ওপর ভরসা রাখছে প্রোটিয়ারা। ঘোষিত স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন ছয়জন পেস বোলার। আগের আসরের মতো এবারও দলের নেতৃত্বে থাকছেন এইডেন মার্করাম।

চোট কাটিয়ে ফেরা কাগিসো রাবাদার কাঁধেই থাকছে পেস আক্রমণের মূল দায়িত্ব। পাজরের চোটের কারণে প্রায় ১০ সপ্তাহ মাঠের বাইরে ছিলেন এই অভিজ্ঞ পেসার। বিশ্বকাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পূর্ণ ছন্দে ফেরার লক্ষ্য তাঁর। রাবাদার সঙ্গে পেস বিভাগে আছেন আনরিখ নর্কিয়া, মার্কো ইয়ানসেন, লুঙ্গি এনগিডি, করবিন বশ ও তরুণ কোয়েনা মাফাকা।

এই স্কোয়াডে সাতজন খেলোয়াড়ের বিশ্বকাপ অভিষেক হতে যাচ্ছে। পেসার মাফাকা ও বশের সঙ্গে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলবেন ব্যাটসম্যান ডেভাল্ড ব্রেভিস, টনি ডি জর্জি ও জেসন স্মিথ। অলরাউন্ডার হিসেবে আছেন জর্জ লিন্ডে ও ডনোভান ফেরেইরা।

ডনোভান ফেরেইরা এই দলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন তাঁর বহুমুখী দক্ষতার কারণে। অফ স্পিনের পাশাপাশি উইকেটকিপিংও করতে পারেন তিনি। টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাট হাতেও বেশ ভয়ংকর ফেরেইরা ও ব্রেভিস—দুজনই পরিচিত ছক্কামেশিন হিসেবে।

এসএ টি–টোয়েন্টির সর্বশেষ ম্যাচে ফেরেইরা ১০ বলে ৩৩ রান করেন, ব্রেভিসের ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ৩৬। বিশ্বকাপে এই দুই তরুণের দিকেই থাকবে বাড়তি নজর।

মার্করামের নেতৃত্বে ২০২৪ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা দলের মাত্র সাতজন এবার স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন। গত অক্টোবরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পর আবারও বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন ওপেনার কুইন্টন ডি কক।

আগের আসরের অভিজ্ঞদের মধ্যে ডেভিড মিলার, কেশব মহারাজ, ইয়ানসেন ও নর্কিয়াও আছেন এবারের দলে।

তবে বেশ কিছু পরিচিত মুখ এবারের বিশ্বকাপে নেই। হাইনরিখ ক্লাসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাইরে। এ ছাড়া রিজা হেনড্রিকস, রায়ান রিকেলটন, ট্রিস্টান স্টাবস, ওটনিয়েল বার্টম্যান, জেরাল্ড কোয়েটজি ও তাব্রাইজ শামসিও জায়গা পাননি।

এই আটজনের সবাই বর্তমানে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে ব্যস্ত। প্রথম সাতজন খেলছেন এসএ টি–টোয়েন্টিতে, আর শামসি আছেন আইএল টি–টোয়েন্টিতে—পরে খেলবেন বিগ ব্যাশ লিগেও।

স্কোয়াডে টনি ডি জর্জির উপস্থিতি কিছুটা বিস্ময় জাগিয়েছে। বর্তমানে চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকলেও এশিয়ার কন্ডিশনে তাঁকে কার্যকর ব্যাটসম্যান হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্ট ও ওয়ানডেতে করা তিনটি সেঞ্চুরির দুটিই এসেছে এশিয়ায়। সে কারণেই মাত্র দুটি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে ৪০ রান করা এই বাঁহাতিকে দলে রাখা হয়েছে।

একইভাবে নজর কাড়ছে জেসন স্মিথের অন্তর্ভুক্তি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখনো মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এসএ টি–টোয়েন্টিতে খুব একটা ধারাবাহিক না হলেও গত নভেম্বরে টি–টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ টুর্নামেন্টে ১৯ বলে ৬৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছিলেন স্মিথ। টপ অর্ডারে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মিডিয়াম পেসও করতে পারেন তিনি, যা দল নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা এনে দিয়েছে।

স্পিন বিভাগে দক্ষিণ আফ্রিকার ভরসা দুই বাঁহাতি—কেশব মহারাজ ও জর্জ লিন্ডে। অফ স্পিনের বিকল্প হিসেবে বল করতে পারেন অধিনায়ক মার্করাম ও ফেরেইরা।

দক্ষিণ আফ্রিকা দল>>

এইডেন মার্করাম (অধিনায়ক), কুইন্টন ডি কক, ডেভাল্ড ব্রেভিস, ডেভিড মিলার, ডনোভান ফেরেইরা, টনি ডি জর্জি, জর্জ লিন্ডে, মার্কো ইয়ানসেন, করবিন বশ, লুঙ্গি এনগিডি, কাগিসো রাবাদা, কেশব মহারাজ, আনরিখ নর্কিয়া, কোয়েনা মাফাকা, জেসন স্মিথ।