পিচ স্পিনস্বর্গ। একাদশে চার বিশেষজ্ঞ স্পিনার। প্রতিপক্ষকে স্পিনে আটকে দিতে ভারতের ফাঁদটা সহজেই টের পাওয়া যায় এতে। ফাঁদটা কাজও করলো ঠিকঠাক। কিন্তু ভারতের জন্য নয়, সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য!
কলকাতা টেস্টে নিজেদের পাতা ফাঁদে নিজেরাই আটকে গেল স্বাগতিক ভারত। ১৫ বছর ভারতের মাটিতে টেস্ট জিতে উল্লাসে মাতলো প্রোটিয়ারা।
ইডেন গার্ডেনসে প্রথম ইনিংসে ১৫৯ রানে অলআউট হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারত প্রথম ইনিংসে করে ১৮৯ রান। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে কাল শনিবার দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৩ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারায় আফ্রিকানরা।
আজ সকালে তাদেরকে ১৫৩ রানে গুটিয়ে দেয় ভারত। একপ্রান্ত আগলে রাখলেও সঙ্গী না পাওয়ায় ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন করভিন বশ। জাদেজা ৪টি, কুলদীপ যাদব ২টি, অক্ষর প্যাটেল, মোহাম্মদ সিরাজ ও বুমরাহ ১টি করে উইকেট নেন।
ভারতের সামনে জয়ের লক্ষ্য ১২৩ রান।
জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ব্যাকফুটে ছিল ভারত। কারণ, তাদের নিয়মিত অধিনায়ক শুবমান গিল ঘাড়ের সমস্যায় দ্বিতীয় দিনে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন। ফলে একজন কম ব্যাটার নিয়েই নামতে হয় স্বাগতিকদের।
প্রোটিয়াদের একাদশের দুই বিশেষজ্ঞ স্পিনার সাইমন হারমার ও কেশব মহারাজ একের পর এক আঘাত হেনে নাস্তানাবুদ করে দেন শক্তিশালী ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে।
প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নেওয়া হারমার দ্বিতীয় ইনিংসেও শিকার করেছেন সমান সংখ্যক উইকেট। ধ্রুব জুরেল, ঋষভ পন্ত, রবীন্দ্র জাদেজাকে ফিরিয়ে ভারতের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দিয়েছেন তিনিই। ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠেছে হারমারের হাতে।
এর আগে ভারতের টপ অর্ডারে আঘাত হানেন মার্কো জানসেন। দুই ওপেনার যশস্বী জয়সোয়াল ও লোকেশ রাহুলকে থিতু হওয়ার আগেই ফিরিয়ে দেন এই পেসার।
ভয়ংকর হতে শুরু করা অক্ষর প্যাটেল (১৭ বলে ২৬) ও মোহাম্মদ সিরাজকে তুলে নেন কেশব মহারাজ। পার্টটাইমার এইডেন মার্করাম এসে শিকার করেন গলার কাঁটা হয়ে থাকা ওয়াশিংটন সুন্দরকে (৩১)।
ভারত অলআউট হয় ৯৩ রানে। ৩০ রানের জয়োল্লাসে মাতে সফরকারীরা।
সেই ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাগপুর টেস্টে ভারতের মাটিতে সবশেষ জয় পেয়েছিল গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রায় ১৫ বছর পর এলো আরেকটি জয়।
টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে টেম্বা বাভুমা যেন দুরন্ত গতির ঘোড়া! তার অধীনে ১১ টেস্ট খেলে সবক’টিতেই অপরাজিত দক্ষিণ আফ্রিকা। ১০ জয়ের বিপরীতে ১টিতে ড্র।
ভারতের মাটিতে এই প্রথম এমন টেস্ট ম্যাচ হলো, যেখানে চার ইনিংসের মধ্যে একটিতেও কোনো দল ২০০ রান পেরোতে পারলো না।

