জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কর্তৃক বিসিবির নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা এবং ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর ক্রিকেট পাড়ায় এখন একটাই প্রশ্ন—তামিম ইকবালের ভূমিকা কী হবে? অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে তাঁর প্রধান কাজ একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা। কিন্তু গঠনতন্ত্রের মারপ্যাঁচে তামিম নিজে সেই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
অ্যাডহক কমিটির আয়ু ৯০ দিন
এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান আজ সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ হবে ৯০ দিন। এই সময়ের মধ্যে তাঁদের প্রধান দায়িত্ব হলো বিসিবির পরবর্তী নির্বাচনের আয়োজন করা এবং একটি নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা।
তবে এই কমিটির সদস্যরা নিজেরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নের কোনো সরাসরি উত্তর দেননি এনএসসি পরিচালক। তিনি বারবার শুধু এটুকুই বলেছেন, “নির্বাচিত কমিটির কাছে তারা দায়িত্ব হস্তান্তর করবে, অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব মূলত এটাই।”
আরও পড়ুন: বিসিবির কমিটি ভাঙার যত কারণ, যে কারণে তামিম ইকবাল দায়িত্বে
গঠনতন্ত্রের ধোঁয়াশা ও তামিমের ভবিষ্যৎ
সাধারণত জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার গঠনতন্ত্রে অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা থাকে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনের আগে তাঁদের পদত্যাগ করতে হয়। তবে বিসিবির ক্ষেত্রে বা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ২০১৮ সালের আইনে অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
যদি তামিম ইকবাল বিসিবির পূর্ণ মেয়াদে সভাপতি হতে চান, তবে তাঁকে কাউন্সিলর হয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই আসতে হবে। এখন প্রশ্ন হলো, তিনি কি কেবল ‘তত্ত্বাবধায়ক’ হিসেবে নির্বাচন আয়োজন করে সরে যাবেন, না কি নিজেই প্যানেল দিয়ে বিসিবির শীর্ষ পদে বসার লড়াইয়ে নামবেন?
নির্বাচন বাতিলের নেপথ্যে যে অনিয়ম
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিসিবির সাবেক পর্ষদের বিরুদ্ধে বিস্তর অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে, যা এই অ্যাডহক কমিটি গঠনের পথ প্রশস্ত করেছে:
বুলবুলের একক সিদ্ধান্ত: বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল গঠনতন্ত্র ভেঙে এককভাবে ১০ জন জাতীয় খেলোয়াড়কে কাউন্সিলর মনোনীত করেছিলেন, যার কোনো বোর্ড সভার কার্যবিবরণী পাওয়া যায়নি।
কাউন্সিলরশিপে জালিয়াতি: ফারুক আহমেদের কাউন্সিলরশিপ নির্ধারিত সময়ের পরে জমা পড়া এবং ঢাকা জেলা ও বিভাগের কাউন্সিলর নির্বাচনে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপের প্রমাণ পেয়েছে কমিটি।
সংস্থার হস্তক্ষেপ: জেলা-বিভাগীয় সংস্থা থেকে নাম পাঠানোর পর বিসিবি সভাপতির চিঠির প্রেক্ষিতে পুনরায় নাম পাঠানোর ঘটনাকেও ‘অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইসিসি কি এই কমিটি মেনে নেবে?
সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়ে আইসিসি অত্যন্ত কঠোর। তবে এনএসসি দাবি করেছে, নির্বাচনের অনিয়মগুলো আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। যেহেতু এটি আইনি ও গঠনতান্ত্রিক অনিয়মের প্রেক্ষাপটে নেওয়া ব্যবস্থা, তাই আইসিসি এই অ্যাডহক কমিটিকে ইতিবাচকভাবেই দেখবে বলে আশা করছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এখন দেখার বিষয়, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এই ৯০ দিনে বিসিবি কোন পথে হাঁটে।

