তানজিদ হাসান তামিম

দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোতে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে রান দেখা যায়। কিন্তু যখনই মঞ্চটা বড় হয়, তিনি ফ্লপ! আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ হোক বা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, সবখানে তানজিদের ব্যাটে রানখরা।

বিষয়টা অনুধাবন করতে পারছেন এই ওপেনার। তাই তো বলছেন ‘চেষ্টা করার’ কথা।

তানজিদ কি বলছেন, সেটা জানার আগে আইসিসি টুর্নামেন্টের তার পারফরম্যান্স খানিকটা দেখা যাক।

২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ৯টি ম্যাচ খেলে। সবক’টিতেই ছিলেন তানজিদ তামিম। একেবারেই ব্যর্থ ছিলেন। মাত্র ১৬.১১ গড়ে ১৪৫ রান! একই বছর এশিয়া কাপে দুই ইনিংস খেলে করেন মাত্র ১৩ রান।

সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তিনি ব্যর্থ। ৭ ইনিংসে ১০.৮৫ গড়ে ৭৬ রান! স্ট্রাইক রেটও ছিল একশর (৯৬.২০) নিচে!

এবারের এশিয়া কাপে ৫ ইনিংসের মধ্যে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ফিফটি করেছিলেন। কিন্তু বাকি ৪ ইনিংস মিলিয়ে করেন মাত্র ১৫ রান!

এ বছরের শুরুর দিকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে দুই ইনিংসে করেন ৪৯ রান।

বড় টুর্নামেন্টে তার এই বাজে পারফরম্যান্স দলগত সাফল্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সেটা অনুধাবন করেই বৈশ্বিক আসরেও নিজেকে মেলে ধরতে চান ২৬ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

আজ তানজিদ তামিম বলেন, “আইসিসি ইভেন্টে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি, যেটা আমাকে এখনও কষ্ট দেয়। আমি এই জিনিসটা নিয়ে সবসময়ই ভাবি যে, (দ্বিপাক্ষিক) সিরিজগুলোতে যেরকম ধারাবাহিক পারফর্ম করার চেষ্টা করি বা করি, কতোটুকু সফল হতে পারছি জানি না…তবে চেষ্টা থাকবে যে আইসিসি ইভেন্টেও যাতে ধারাবাহিকভাবে ভালো করে দলে অবদান রাখতে পারি।”

ব্যাট হাতে অবশ্য তানজিদের জন্য এ বছরটা দারুণ কেটেছে। ২৭ ইনিংসে রান করেছেন ৭৭৫, গড় ৩২.২৯, এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৫.৭৫। ছক্কা মেরেছেন ৪১টি। রান ও ছক্কায় এ বছর তিনি বাংলাদেশের জন্য রেকর্ড গড়েছেন।

চলতি বছর টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ভালো করেছে। রেকর্ড ১৫ ম্যাচে জয় এসেছে। তবে দুশ্চিন্তার জায়গা ব্যাটিং, এটা মানছেন সবাই। এজন্যই ব্যাটসম্যানদের নিয়ে মিরপুরে চলছে বিশেষ ক্যাম্প।

ক্যাম্প নিয়ে তানজিদ বলেন, “ম্যাচ পরিস্থিতিতে কোন ফিল্ড সেট আপে কীভাবে গ্যাপ বের করা যায়, এ নিয়েই কাজ হচ্ছিল। আমরা অনেক সময় কম ঝুঁকিতে রান নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেলি, আর সেখানেই দ্রুত দুই-তিনটি উইকেট পড়ে যায়।”

“এই অনুশীলনের মূল ফোকাস হলো, কীভাবে কম ঝুঁকি নিয়ে বাউন্ডারি এবং স্ট্রাইক দুটোই সচল রাখা যায়, যাতে ব্যাটিংটা স্বাভাবিক ছন্দে চলতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েই কাজ হচ্ছে।”